চট্টগ্রাম বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

দুই বছরের ব্যবধানে চট্টগ্রামে মৃত্যুহার

এইডসে মৃত্যু বেড়েছে সাড়ে ৪ গুণ

ইমাম হোসাইন রাজু 

১ ডিসেম্বর, ২০২৩ | ১:০৬ অপরাহ্ণ

২০২১ সালে এইচআইভি সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে মৃত্যু হয়েছিল মাত্র ৬ জনের। অথচ গত এক বছরেই (নভেম্বর ২২-অক্টোবর ২৩) একই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে চট্টগ্রামে এইচআইভি সংক্রমণে মৃত্যুর হার বেড়েছে সাড়ে চারগুণ। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের এন্টি রিক্টোভাইরাল থেরাপি সেন্টার (এআরটি) থেকে প্রাপ্ত তথ্যে এসব জানা গেছে।

তবে সুখবর হচ্ছে- গত বছরের তুলনায় এ বছর নতুন করে শনাক্তের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি নেমেছে। ২০২২ সালে ৮৯ জন শনাক্ত হলেও এ বছর নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫৮ জন। তবে এ সংখ্যা আরও কমানোর সুযোগ আছে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন- চলতি বছরে নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৩৮ শতাংশ হচ্ছে প্রবাসী। যার মধ্যে অধিকাংশই হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য ফেরত। প্রবাসে অবস্থানরতদের ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান না থাকা এবং বিদেশে যাওয়ার আগে পর্যাপ্ত কাউন্সেলিং না হওয়ার কারণে এ রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন তারা। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসব ব্যক্তিদের মাঝে সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

চমেক হাসপাতালে অবস্থিত এআরটি’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে (নভেম্বর-২২ থেকে অক্টোবর-২৩) এ সেন্টারটিতে সর্বমোট ৩ হাজার ৩১ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। তারমধ্যে ৫৮ জনের মধ্যে এইচআইভি এইডস শনাক্ত হয়। এসব রোগীর মধ্যে ৪২ জন পুরুষ, ১৫ জন নারী এবং ১ জন তৃতীয় লিঙ্গের রোগী রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ২২ জন প্রবাসী (৩৮ শতাংশ), ১৭ জন সাধারণ মানুষ (২৯ শতাংশ), ১৩ জন যৌনকর্মী (২২ শতাংশ), ৩ জন রোহিঙ্গা (৫.১৭ শতাংশ), ২ জন শিরায় মাদক গ্রহণকারী (৩.৪৫ শতাংশ) এবং একজন তৃতীয় লিঙ্গের যৌনগোষ্ঠী (১.৭২ শতাংশ) রয়েছেন। এছাড়াও একই সময়ে মারা গেছেন ২৭ জন। যাদের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ বা ১৫ জনই হচ্ছেন প্রবাসী। আর ৪০ দশমিক ৭৪ শতাংশ বা ১১ জন সাধারণ জনগোষ্ঠী, ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ বা ১ জন শিরায় মাদকগ্রহণকারী রয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের এন্টি রিক্টোভাইরাল থেরাপি সেন্টার (এআরটি) সেবাকেন্দ্রের মুখপাত্র ডা. দেব প্রতীম বড়–য়া বলেন, ‘চট্টগ্রামের এইচআইভি সংক্রমনে আক্রান্তদের বড় অংশ প্রবাসী। এদের অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছিলেন। অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক বা অন্যান্য কারণে তারা এ ভাইরাসের জীবাণু বহন করে আনছেন, এদের মাধ্যমেই তাদের স্ত্রীর মধ্যে সংক্রমিত হচ্ছে। মূলত প্রবাসে অবস্থানরতদের ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান না থাকার কারণে তারা আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই এইচআইভি সংক্রমণের হার কমাতে হলে সচেতনতামূলক কর্মসূচির কোনো বিকল্প নেই।’

 

 

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট