চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

সর্বশেষ:

‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’ এখন ওদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল

‘মিনারের মত মেয়েদের জন্য সবাইকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন’

মরিয়ম জাহান মুন্নী 

২৮ নভেম্বর, ২০২৩ | ৩:৪১ অপরাহ্ণ

আনুমানিক ১১ বছরের মিনারা নগরীর রেল স্টেশনে ভিক্ষা করতো। পরিচয়হীন মেয়েটি রাত হলে স্টেশনের কোনো এক কোণে ঘুমিয়ে পড়তো। কিন্তু স্টেশনের কিছু মানুষ রাতের আঁধারে ঘুমন্ত মিনারার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। দিনের বেলায়ও নানাভাবে বিরক্ত করতো । বিশেষ করে রাত নামছে দেখলে ভয় পেত মেয়েটি। কোথায় যাবে, কি করবে কিছুই সে জানে না। প্রায় দু’বছরের বেশি সময় আতঙ্কে রাত কাটানোর পর অসহায় মেয়েটির সৌভাগ্যের দুয়ার খুললো। আশপাশের কোনো এক ব্যক্তির সহযোগিতায় এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করা ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’ নামের সংস্থাটিতে মিনারা খুঁজে পেল নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এখন সে নিরাপদে রাতে ঘুমাতে পারে। পড়াশোনাও করছে । দুই বছর ধরে এটাই তার আবাসস্থল।

 

শুধু মিনারাই নয়, ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’ সংগঠনটিতে বর্তমানে তারই মত আরো ২৭ জন ছেলে মেয়ে আছে। এরমধ্যে শিশু- কিশোরী আছে ১৫ জন। এসব শিশু-কিশোররা সবাই সমাজে অবহেলিত ও নিপীড়িত সুবিধাবঞ্চিত পথশিশু। রাস্তায় কেউ ভিক্ষা করে খাবার জোগাতো, কেউ পরিবার হারিয়ে এখানে আছে। কিছু শিশু-কিশোর আছে যাদের বাবা-মা নেই, রাস্তায় চুরি, ছিনতাইয়ের মত অপরাদ করতো, মাদক সেবন করত। তারা এখন দু’বেলা ভাত পাচ্ছে, করছে পড়াশোনাও।

 

তবে সংগঠনের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ফান্ডের অভাবে আর্থিক সংকটে রয়েছে অসহায় শিশুকিশোরদের নিয়ে কাজ করা এ সংগঠনটি।বর্তমানে এলাকার স্থানীয় প্রতিনিধি ও কয়েকজন বিত্তবানের সহযোগিতায় তাদের দু’বেলা খাবার জুটে। এছাড়া ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সহযোগিতায় এলাকার বিভিন্ন স্কুলে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

 

অপরাজেয় বাংলাদেশ চট্টগ্রাম জোনের ইনচার্জ জিনাত আরা বেগম বলেন, এখানে এমন অনেক মেয়ে আছে যারা রাস্তায় যৌন হায়রানি বেশি হয়েছে। পরবর্তীতে এ মেয়েরা কোনো না কোনো মাধ্যমে এখানে এসেছে। তারা এখন নিরাপদে আছেন। এ মুহূর্তে অপরাজেয় বাংলাদেশ’র আর্থিক সংকটে রয়েছে। অথচ ২৩ বছরে প্রায় ১০ হাজার পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোর এখান থেকে পড়াশোনা করে স্বাবলম্বী হয়ে এখন থেকে চলে গেছেন। এখন মাত্র ২৭ জন ছেলে মেয়ে আছে। তাদের ভরণপোষণ চালাতেও হিমশিম খেতে হয় আমাদের।

 

তিনি আরো বলেন, এ মেয়েদের জন্য হলেও সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসা দরকার। কারণ এসব কিশোরীরা রাস্তায় নানাভাবে নির্যাতনে শিকার হচ্ছে। নির্যাতন বন্ধ করতে হলে এমন সংগঠনগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিও সংস্থার মাধ্যমে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তাদের।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট