চট্টগ্রাম শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

সর্বশেষ:

বঙ্গবন্ধু টানেল

উদ্বোধনের এক মাসে বেড়েছে সম্ভাবনা

সুমন শাহ, আনোয়ারা

২৬ নভেম্বর, ২০২৩ | ৫:৫৬ অপরাহ্ণ

বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে খুলেছে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে বাস্তব অর্থে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। অর্থনৈতিক বিবেচনায় পরিকল্পিত শিল্পজোন করার বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে। পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করার উপর জোর দিচ্ছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। এর মধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) আলাদা শিল্প ও আবাসিক জোনে আনোয়ারা-কর্ণফুলীকে নিয়ে পরিকল্পিত উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে যাচ্ছে। গত ২৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল। এরপর হতে চলছে এক মাস। এ সময়ে টানেল দেখার আগ্রহ ও পর্যটন শিল্পে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। অঘোষিত বাস স্টপেজ বসে গেছে আনোয়ারা প্রান্তে কালাবিবির দিঘি এলাকায়।

 

এরইমধ্যে চালু হয়েছে বেসরকারি ব্যাংকের ৫টি শাখা-উপশাখা। চালুর অপেক্ষায় আছে আরও দুটি। সংযোগ সড়কের মুখে চালুর অপেক্ষায় আছে ইউনিটেক্স গ্রুপের সমন্বিত গার্মেন্টস কারখানা। শিল্পকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়তে এখানে ধানি জমি কিনে ব্যবসায়িক প্লট করার চিন্তায় আছে অন্তত একশ প্রতিষ্ঠান। জানা যায়, চট্টগ্রামে বর্তমানে যেসব শিল্পকারখানা আছে তার ৯০ শতাংশই কর্ণফুলীর উত্তর পাড়ে। দক্ষিণ তীরে আছে মাত্র ১০ শতাংশ। টানেল চালুর মধ্য দিয়ে আনোয়ারা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিশাল অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর কিংবা মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত গড়ে উঠতে পারে বিজনেস হাব।

 

বেসরকারি এনসিসি ব্যাংকের ইসি চেয়ারম্যান এস এম আবু মহসিন বলেন, কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরে শিল্পকারখানা চালুর বিষয়ে এখনই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দরকার। সেই সাথে ব্যবসায়ীদের জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অবকাঠামোগত সুবিধাগুলো নিশ্চিত করতে হবে। কোথায় শিল্পকারখানা হবে আর কোথায় আবাসিক এলাকা হবে সেরকম জোন চিহ্নিত করতে হবে।

 

তিনি বলেন, শিল্প সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেই ব্যাংকগুলো এখানে নতুন নতুন শাখা করছে। আগামী পাঁচ বছর পর এখানে যে ব্যবসায়িক পরিধি থাকবে তা হ্যান্ডল করার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোরও প্রস্তুতি থাকতে হবে।

 

এদিকে, পরিকল্পিত শিল্পায়নের বিষয়টি মাথায় রেখে আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) বাস্তবায়নে মনোযোগী হচ্ছে সিডিএ। ২০০৯ সালে প্রণীত এ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আনোয়ারা-কর্ণফুলীকে ১২ নম্বর জোনে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এ জোনে জমির পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার ১৯৮ একর। এলাকাটিকে ভাগ করা হচ্ছে মোট ৯টি উপ-এলাকায়। এর মধ্যে শিল্পের জন্য নির্দিষ্ট রাখা হচ্ছে ৮৯৮০ একর জমি। আবাসিকের জন্য থাকবে ৫৮৪০ একর। এছাড়া কৃষি, উপকূলীয় বনায়ন, বিনোদন, বাস ও ট্রাক টার্মিনালের জন্য আলাদা এলাকা ভাগ করা থাকবে।

 

আগে এ এলাকায় যেকোন স্থাপনা নির্মাণে স্থানীয় প্রশাসন তথা উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদ অনুমোদন দিত। ড্যাপ বাস্তবায়ন হলে অনুমতি নিতে হবে সিডিএর কাছ থেকে। সেক্ষেত্রে অপরিকল্পিত স্থাপনা তৈরির পথ বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানা গেছে।

 

সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরে শহর সম্পসারণে যে ট্রেন্ড চলছে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়নে মাস্টার প্ল্যানের আলোকে সিডিএ আলাদা জোন করার ব্যবস্থা নিচ্ছে। কর্মাশিয়াল ও আবাসিক আলাদা থাকবে। অনুমোদনের কন্ট্রোলিং চলে আসবে সিডিএর কাছে।

 

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম সভাপতি এস এম আবু তৈয়ব বলেন, পরিকল্পিত শিল্পায়ন হলে সত্যিকার অর্থে এক নগর দুই শহর হিসেবে গড়ে উঠবে দক্ষিণ তীরের আনোয়ারা-কর্ণফুলী। তাতে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা লাভবান হবে। যে উদ্দেশ্যে টানেলের মত মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে তা দ্রুত সফলতা পাবে।

 

পূর্বকোণ/আরডি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট