চট্টগ্রাম সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪

সর্বশেষ:

চমেক হাসপাতালের বহির্বিভাগের ৮ মাসের চিত্র

হাসপাতালে আসা শিশুদের ১১ শতাংশই নিউমোনিয়া রোগী

ইমাম হোসাইন রাজু

১২ নভেম্বর, ২০২৩ | ১২:২৭ অপরাহ্ণ

আড়াই বছর বয়সী আনাফকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে শিশু স্বাস্থ্য বহির্বিভাগে আসেন তার মা আছমা আক্তার। ক’দিন ধরে কাশি আর শ^াস-প্রশ^াসের সমস্যা ছিল আনাফের। চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর জানায়-আনাফ নিউমোনিয়ায় ভুগছে। তাই দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক।  আনাফের মা আছমা আক্তার বলেন, ‘খুব যতœ করা হয় আনাফকে। গত চার-পাঁচ দিন ধরেই সর্দি-কাশি ও হালকা জ¦র ছিল তার। কিন্তু হঠাৎ তার শ^াস-প্রশ^াসের সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় ছুটে আসেন হাসপাতালে।’

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু আনাফ নয়, চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বহির্বিভাগে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি থেকে আগস্ট) চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের ১১ দশমিক ২০ শতাংশ শিশুই ছিল নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি নিউমোনিয়ায় ভোগা শিশু আসে গত আগস্ট মাসে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ‘হেলথ বুলেটিন’ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

 

চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অন্যান্য রোগের চেয়ে তুলনামূলক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু বেশি আসে। সাম্প্রতিক সময়ে ভাইরাসজনিত ব্রংকিওলাইটিসে আক্রান্ত শিশু বেশি আসছে। তবে শিশুর প্রতি যতœ নেওয়া গেলে এ রোগ থেকে বাঁচা সম্ভব।’

 

তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গত আগস্ট পর্যন্ত চমেক হাসপাতালের বহির্বিভাগের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগে শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী ৫ হাজার ৩৫৫ জন শিশু সেবা নিতে আসে। তাদের মধ্যে প্রায় ৬শ জন ছিল নিউমোনিয়া রোগী। যা শতকরায় ১১ দশমিক ২০ শতাংশ। এদেরমধ্যে সব চেয়ে বেশি নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু পাওয়া যায় গত আগস্ট মাসে। এ মাসে হাসপাতালে আসা ৪৮৫ শিশুর মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ শিশুই ছিল নিউমোনিয়া আক্রান্ত। এছাড়া জানুয়ারিতে ১১ দশমিক ১১ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে ১২ শতাংশ, মার্চে ৮ শতাংশ, এপ্রিলে ১২ শতাংশ, মে-তে ১২ শতাংশ, জুনে ১১ শতাংশ, জুলাইয়ে ১২ শতাংশ নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু হাসপাতালে আসে।

 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ হচ্ছে নিউমোনিয়া। কিন্তু নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা দিলেও প্রায় ৫০ ভাগ অভিভাবক আছেন, তারা সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেন না। অনেকেই এ সম্পর্কে জানেনও না। অথচ শিশুর জন্মের প্রথম ছয়মাস শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর ফলে নিউমোনিয়া হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। এছাড়াও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, শিশুর প্রতি যতœবান এবং জীবাণুমুক্ত রাখতে পারলেই এ রোগ থেকে বাঁচা সম্ভব। পাশাপাশি উপসর্গ থাকলে সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ জরুরি।’

 

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের (আইসিডিডিআরবি) এক গবেষণায় বলা হয়, দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মোট মৃত্যুর ২৪ শতাংশ শিশু মারা যায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে। আর এই মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায় দূষিত বাতাস। তাই ঘরের ভেতরের বায়ুর মান উন্নত করে নিউমোনিয়ায় মৃত্যু অর্ধেক করা যায়, হাত ধোয়ার অভ্যাস ২১ শতাংশ মৃত্যু কমায়, জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশু শুধু মায়ের দুধ খেলে নিউমোনিয়ায় মৃত্যু ১৫ শতাংশ কমে যায় বলে উল্লেখ করা হয়।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট