চট্টগ্রাম রবিবার, ২৩ জুন, ২০২৪

চট্টগ্রাম কাস্টমস

গুঁড়া দুধ কমলা আদা প্রকাশ্য নিলামে

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ নভেম্বর, ২০২৩ | ১:৪০ অপরাহ্ণ

সম্প্রতি ১ লাখ ১০ হাজার কেজি গুঁড়া দুধ বিক্রির জন্য প্রকাশ্য নিলাম ডাকা হলেও অংশগ্রহণকারীদের হট্টোগোলে সেটি স্থগিত হয়ে যায়। ফলে ওই চালানের গুঁড়া দুধ পুনরায় নিলামে তুলেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। আগামী সোমবার এই গুঁড়া দুধ ছাড়াও আদা ও কমলার প্রকাশ্য নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।

 

কাস্টম সূত্রে জানায়, গুঁড়া দুধের চালানের সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করেছিল ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬৩ টাকা। দুধের এই চালান আসে ভারত থেকে। মোট ৪টি ৪০ ফুটের কনটেনারে এসব দুধ চট্টগ্রাম বন্দরে আসে ২০২২ সালে। এই দুধের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানাধীন কাঁচপুরের প্রতিষ্ঠান অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। ৪ হাজার ৪শ ব্যাগের এই চালানটিও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০২২ সালের ৪ জুলাই নিলামের জন্য আর.এল ভুক্ত করে। তার দুদিন পর ৬ জুলাই চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চালনটির কায়িক পরীক্ষা করে। এই চালানের গুঁড়া দুধের মেয়াদ রয়েছে ২০২৪ সালের ১৪ মার্চ পর্যন্ত। একই দিনে অপর দুটি ভিন্ন নিলামে ৪৮ টন আদা নিলামে তোলা হবে। এরমধ্যে একটি চালানে আদা আছে ২৩ হাজার ৯০৮ কেজি। ইন্দোনেশিয়া থেকে এই আদা চট্টগ্রাম বন্দরে আসে গত জুলাই মাসে। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক মেসার্স এ জি আর এগ্রো ইন্টারন্যাশনাল আদাগুলো খালাস না করায় গত ৪ আগস্ট বন্দর কর্তৃপক্ষ চালানটি নিলামের জন্য আর.এল ভুক্ত করে। সেই চালান ২৬ সেপ্টেম্বর কাস্টমস কর্মকর্তরা ইনভেন্ট্রি করে। চালনটি সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৯ লাখ ৭৭ হাজার ৩২৩ টাকা।

 

অপর চালানেও ইন্দোনেশিয়া থেকে আসে ২২ হাজার ১শ কেজি আদা। ওই আদা আমদানি করে রাজধানীর সুত্রাপুর এলাকার ফারাসগঞ্জ রোডের প্রতিষ্ঠান মেসার্স সিকদার ভেঞ্চার্স। ওই চালান বন্দরে আসে জুলাইয়ে। পরে পণ্যটি খালাস না হওয়ায় ৩০ আগস্ট বন্দর সেটি নিলামের আর.এল ভুক্ত করে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেই চালান ১৯ অক্টোবর ইনভেন্ট্রি করে। চালানটির সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করে ২৮ লাখ ৮৭ হাজার ১৮ টাকা।

 

গুঁড়া দুধ ও আদা ছাড়াও একদিন সোমবার ৪৩ টন কমলাও নিলামে তোলা হবে। ২১ হাজার ৬শ কেজি করে দুটি আলাদা চালানে ওই কমলা আমদানি করে ঢাকার রূপায়ন শপিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠান দেশবাংলা ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেড। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা সেই কমলা খালাস না করায় বন্দর চালান দুটি গত ১০ অক্টোবর নিলামের জন্য আর.এল ভুক্ত করে। চট্টগ্রাম কাস্টমস সেটি ২৬ অক্টোবর ইনভেন্ট্রি করে প্রতিটি চালানের সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করে ৩৬ লাখ ২ হাজার ৩৮৯ টাকা।

 

নিলাম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান কে এম কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক মো. মোরশেদ পূর্বকোণকে বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে পচলশীল পণ্য দ্রুত নিলামে বিক্রির একটি নির্দেশনা রয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম কাস্টমসের নির্দেশে গুঁড়া দুধ, আদা ও কমলাগুলো প্রকাশ্য নিলামে তোলা হয়েছে। কায়িক পরীক্ষায় পণ্যগুলো মান ভালো পাওয়া গেছে। এমনকি নিলামের পূর্বে আগ্রহী ক্রেতাদের পণ্যগুলো স্বশরীরে দেখারও সুযোগ রাখা হয়েছে। নিলাম এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে প্রচার করা হবে এবং কাস্টমসের ওয়েবসাইট ও নিলাম শাখার নোটিশ বোর্ডেও প্রচার করা হচ্ছে। অর্থাৎ নিলামের প্রচারের জন্য ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা রাখি নিলামে বিপুল বিডার অংশগ্রহণ করবে। নিলামে বিডার সংখ্যা বাড়লে প্রতিযোগিতামূলক দর পাওয়া যায়। এতে কাস্টমস তথা সরকার ভালো পরিমাণ রাজস্বও পায়।

 

পূর্বকোণ/আরডি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট