চট্টগ্রাম শনিবার, ১৫ জুন, ২০২৪

চমেক হাসপাতাল

তিন সপ্তাহেও সচল হয়নি একমাত্র সিটিস্ক্যান মেশিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ নভেম্বর, ২০২৩ | ১:২৭ অপরাহ্ণ

তিন সপ্তাহ পার হতে চললেও এখন পর্যন্ত সচল হয়নি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের একমাত্র সিটিস্ক্যান মেশিন। বারবার বিকল হওয়ায় মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ রোগীদের। দুর্ভোগে পড়া এসব রোগীরা বাধ্য হয়েই স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ দিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হচ্ছে বাইরের প্রতিষ্ঠান থেকে।  অবশ্য, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেশিনটি সচল করতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে বারবার তাগাদা দিচ্ছেন।

 

পাশাপাশি নতুন আরও একটি মেশিন স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের চিঠিও প্রেরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।  এর আগে দীর্ঘদিন অচল থাকার পর সচল হওয়ার তিন সপ্তাহ না পেরুতেই গত ২৬ অক্টোবর পুনরায় নষ্ট হয়ে যায় চমেক হাসপাতালের একমাত্র সিটিস্ক্যান মেশিনটি। অকেজো হওয়ার পরপর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা এসে ত্রুটি খুঁজে বের করেন। প্রায় ৪০ লাখ টাকা মূল্যে একটি টিউব মেশিনে লাগানো হলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তাও নষ্ট হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত চিহ্নিত ত্রুটি সারানো যায়নি।  জানতে চাইলে চমেক হাসপাতালের রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সুভাষ মজুমদার বলেন, ‘সচল করতে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। তবে এখন পর্যন্ত সচল হয়নি। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে সচল হয়ে যাবে।’

প্রসঙ্গত: ২০১৯ সালের মার্চে চমেক হাসপাতালের তৃতীয় তলায় অবস্থিত রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং বিভাগে স্থাপন করা হয় সিটিস্ক্যান মেশিনটি।  প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের এ মেশিনটি সরবরাহ করে ঢাকার মেডিটেল প্রাইভেট লিমিটেড নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী মেশিনটির ওয়ারেন্টি রয়েছে ২০২৬ সাল পর্যন্ত। তবে মেশিনটি চালু হওয়ার পর কিছুদিন বিচ্ছিন্নভাবে চালু থাকলেও বহুবার ত্রুটির কারণে সেবা বন্ধ ছিল সিটিস্ক্যানের।

 

এরমধ্যে চলতি বছরের ৬ জুন ত্রুটি দেখা যায় সিটিস্ক্যান মেশিনের। সেই দিন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত সেবা বন্ধ থাকে। এছাড়া গত ৪ আগস্ট থেকে ফের বন্ধ হয়ে যায় মেশিনটি। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে মেশিনটি সচল করতে সক্ষম হন প্রকৌশলীরা। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে সেবা প্রদান করা হলেও এরমধ্যে গত ২৬ অক্টোবর আবারও বিকল হয়ে পড়ে। জানা যায়, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত গড়ে ৩০ থেকে ৫০ জনের সিটিস্ক্যান সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। পরীক্ষা ভেদে মাত্র ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকায় এ সেবা গ্রহণ করতে পারেন সাধারণ রোগীরা। যা বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ল্যাবে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় করতে হয় রোগীদের।  চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে মেশিনটি সচল করতে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন আরও একটি মেশিন পাওয়ার জন্য ইতোপূর্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’

 

পূর্বকোণ/আরডি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট