চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন ১৪ নভেম্বর

খুলছে নগর যোগাযোগের অনিবার্য দ্বার

ইমরান বিন ছবুর

১০ নভেম্বর, ২০২৩ | ১২:১৬ অপরাহ্ণ

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার অনন্য দ্বার খুলছে ১৪ নভেম্বর। ওইদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নগরীর লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা সি-বিচ পর্যন্ত ১৫ দশমিক ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ সিডিএ’র তিন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।

 

এই তিন সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিরসনসহ যাতায়াত ব্যবস্থা অনেক দ্রুত ও সহজ হবে বলে মনে করছেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কর্মকর্তারা। চট্টগ্রামের দীর্ঘ ফ্লাইওভার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী সিডিএ ফ্লাইওভার’ নামকরণ করে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। উদ্বোধনের পর প্রাথমিকভাবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পতেঙ্গা থেকে টাইগারপাস পর্যন্ত অংশ চালু হবে। ১৪ নভেম্বর এই ফ্লাইওভার উদ্বোধন শেষে সিডিএ’র কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে পতেঙ্গা থেকে টাইগারপাস আসবেন। তবে ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ নগরীর দীর্ঘ ফ্লাইওভারটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠা-নামার জন্য ১৪টি র‌্যাম্প নির্মাণের কথা থাকলেও র‌্যাম্পগুলো এখন চালু হচ্ছে না। এখনো পর্যন্ত টাইগারপাস থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত অংশের কাজ বাকি রয়েছে। মূলত নগরী থেকে বঙ্গবন্ধু টানেল ও বিমানবন্দরে যাতায়াত দ্রুত ও নির্বিঘ্ন করার জন্য মূল ফ্লাইওভারটি এখন চালু করা হচ্ছে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

 

সিডিএ চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, ১৪ নভেম্বর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ প্রধানমন্ত্রী সিডিএ’র তিন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। এই তিন সড়ক প্রকল্পের ফলে মানুষ দ্রুত সময়ে গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারবে। নগরীর যানজটও অনেকাংশে দূর হবে। উদ্বোধনের পর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে মানুষ ২০ মিনিটের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল ও বিমানবন্দরে পৌঁছে যাবে।

 

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, বর্তমানে মূল ফ্লাইওভারের প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করে আমরা মূল ফ্লাইওভার চালু করে দেব। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর এর কিছুদিনের মধ্যেই টাইগারপাস থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত আমরা মূল ফ্লাইওভার জনসাধারণের যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেব। ফ্লাইওভার নির্মাণে বিভিন্ন জটিলতার কথা উল্লেখ করে প্রকল্প পরিচালক বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আমরা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছি। তবে সব সরকারি-বেসরকারি সংস্থা আন্তরিকভাবে সাহায্য করেছে বলেই এই প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ফ্লাইওভার নির্মাণে সব বাধা অতিক্রম করে দ্রুত গতিতে কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।

 

মূল ফ্লাইওভারের সাথে ওঠা-নামার জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে ১৪টি র‌্যাম্প নির্মাণ করা হবে জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, মূল ফ্লাইওভারের সাথে ১৪টি র‌্যাম্প থাকবে। এসব র‌্যাম্পের মাধ্যমে বিভিন্ন পয়েন্টে মানুষ ফ্লাইওভারে ওঠা-নামা করতে পারবে। বর্তমানে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে মূল ফ্লাইওভার চালু করা। মূল ফ্লাইওভার চালু হলে আমরা র‌্যাম্প নির্মাণের কাজ শুরু করবো।

 

উল্লেখ্য, নগরীর লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা সি-বিচ পর্যন্ত ১৫ দশমিক ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। বিমানবন্দর কেন্দ্রিক যানজট নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। তিন হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৭ সালের ১১ জুলাই একনেকে অনুমোদন পায়। ২০১৯ বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। সম্প্রতি প্রকল্পটির মেয়াদ বৃদ্ধি করে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত এবং ব্যয় বেড়ে ৪ হাজার ২৯৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা হয়।

 

পূর্বকোণ/আরডি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট