চট্টগ্রাম বুধবার, ০৩ মার্চ, ২০২১

সর্বশেষ:

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ২:১১ পূর্বাহ্ণ

ইডিইউর লিংকন-নিসর্গের প্রবন্ধ স্প্রিনজারের গ্রন্থে

সন্তানের বেড়ে ওঠা নিয়ে প্রতিটি পিতা-মাতাই সচেতন। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই সচেতনতা দুশ্চিন্তায় গিয়ে ঠেকে। খুব অল্পেই উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন মা-বাবা। আজকের দিনে এসেও শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির তথ্য ও লালন-পালনের সঠিক দিক-নির্দেশনা অপ্রতুল। একই সাথে নানারকম তথ্যের ছড়াছড়ি বিভ্রান্তও করে তোলে। এর থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়ে দিতে পারে বিশেষভাবে তৈরি করা এক মোবাইল এপ্লিকেশন। ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির (ইডিইউ) কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সহকারী অধ্যাপক লিংকন চৌধুরী এবং শিক্ষার্থী নিসর্গ নিগার আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশিত এক গ্রন্থে এ ধরনের অ্যাপের কথা বলেছেন। অ্যালগরিদমস অব ইনটেলিজেন্ট সিস্টেম নামের গবেষণাগ্রন্থটি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা স্প্রিনজার। এ স্মার্ট হেল্থকেয়ার সিস্টেম ফর চিল্ড্রেন ইউজিং আইওটি এন্ড এনসেমবল টেকনিক নামক এক প্রবন্ধে এ সংক্রান্ত মৌলিক গবেষণাটি তুলে ধরেছেন তারা। মূলত বিশ্বব্যাপী মৌলিক ও উদ্ভাবনী গবেষণাগুলোকে প্রকাশ করে থাকে স্প্রিনজার।

স্প্রিনজার প্রকাশিত এ প্রবন্ধটিতে লিংকন ও নিসর্গ এমন এক এপ্লিকেশন তৈরির কথা বলেছেন, যাতে আইওটি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের শারীরিক এবং মানসিক বেড়ে ওঠাকে পরিমাপ করা যাবে। এজন্য শিশুকে কি কি খাবার কি পরিমাণে খাওয়ানো হচ্ছে তার তথ্য অ্যাপের ড্যাশবোর্ডে নিয়মিত লিখে রাখতে হবে বলে জানান লিংকন চৌধুরী। তিনি বলেন, শিশুর বয়স, ওজনের তথ্য এবং বাচ্চার প্রতিদিনের নির্দিষ্ট কিছু কর্মকা-ের ছবি-ভিডিও এপ্লিকেশনে আপলোড করতে হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে শিশুর সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় যা কিছু, তা বলে দিবে এই এপ্লিকেশন। এর জন্য প্রয়োজন শুধু শিশুকে এই অ্যাপের আওতায় এনে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে রাখা।

পুষ্টির অভাব বা জিনগত সমস্যার কারণে শিশুর আচরণ স্বাভাবিকের তুলনায় ভিন্ন হয়ে থাকে। এই এপ্লিকেশনটি পুষ্টি নিশ্চিতের পাশাপাশি শিশুর আচরণ মনিটরিংয়ের মাধ্যমে তার বেড়ে ওঠা স্বাভাবিক কি না, তাও চিহ্নিত করে জানাবে। গবেষক নিসর্গ নিগার বলেন, অভিভাবকরা এসব বিষয়ে অনেক সময় সচেতন থাকেন না। তাই আচরণগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে শিশুর শারীরিক বা মানসিক বৈকল্যের আশঙ্কা আছে কি না, থাকলে তা প্রতিরোধে করণীয় কি, কখন ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের কাছে নিয়ে যেতে হবে শিশুকে- সেই দিকনির্দেশনাও জানাবে অ্যাপটি। ডাটাবেইজে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে এপ্লিকেশনটি স্বয়ংক্রিয় বুদ্ধিমত্তায় তা নির্ণয় করবে।

ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি গবেষণায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ আল নোমান। তিনি বলেন, লিংকন চৌধুরী ও নিসর্গ নিগারের এ অর্জন ইডিইউর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ী। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিকাশের এ যুগে তারা একটি যুগান্তকারী ধারণা প্রবর্তন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় তিনি গবেষকদ্বয়কে অভিনন্দন জানান।-বিজ্ঞপ্তি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 184 People

সম্পর্কিত পোস্ট