চট্টগ্রাম শনিবার, ১৫ জুন, ২০২৪

ঘরে বসেই হবে কিডনি ডায়ালাইসিস!

নিজস্ব প্রতিবেদক

৬ নভেম্বর, ২০২৩ | ১২:০৬ অপরাহ্ণ

দীর্ঘদিন কিডনি সমস্যায় ভুগছেন রফিক মিয়া (ছদ্মনাম)। প্রথমদিকে ওষুধ আর ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে চলছিল কক্সবাজারের মহেশখালীর এ বৃদ্ধের জীবনপথ। একপর্যায়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন কিডনি ডায়ালাইসিস করার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। কিন্তু এ দূর পথ পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রামে এসে ডায়ালাইসিস নিতে নিতে হাঁপিয়ে পড়েন তিনি। একসময়ে আধুনিক ডায়ালাইসিস (সিএপিডি) করার সিদ্ধান্ত নেন চমেক হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের চিকিৎসকরা। যাতে করে দূর পথ পাড়ি না দিয়ে রফিক মিয়া ঘরে বসেই নিজে নিজেই করতে পারেন কিডনি ডায়ালাইসিস।

 

জানা যায়, গত শনিবার ছোট্ট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সিএপিডি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় রফিক মিয়ার। সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এখন থেকে ঘরে বসেই নিজের কিডনি ডায়ালাইসিস করতে পারবেন তিনি। এ দিন রফিক মিয়া ছাড়াও একই জেলার আরেক কিডনি রোগীর বিশ্বে জনপ্রিয়

 

আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি সিএপিডি (কন্টিনিউয়াস এমবুলেটরি পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস) সম্পন্ন করা হয়। যা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ছিল প্রথম। হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের তত্ত্বাবধানে সরকারিভাবে এ পদ্ধতি চালু হওয়ার ফলে দূর-দূরান্তের কিডনি রোগীরা নিজেরাই ঘরে বসে ডায়ালাইসিস করতে পারবেন। শুরু হওয়া এ পদ্ধতি বেসরকারি হাসপাতালের চেয়ে অন্তত ১০ গুণ কমমূল্যে করা যাবে চমেক হাসপাতালে।

 

চিকিৎসকরা জানান, বাংলাদেশে এখনো অধিকাংশ কিডনি রোগী হাসপাতালে গিয়ে যন্ত্রের সাহায্য রক্ত পরিশোধন (ডায়ালাইসিস) করেন। সিএপিডি পদ্ধতির ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা রোগীর পেটের ভেতর ছিদ্র করে বাইরে থেকে একটি ব্যাগ যুক্ত করে দেন, যা ফ্লুইডের মাধ্যমে রক্ত পরিশোধনের কাজ করে। পরে রোগী নিজের ঘরে থেকে শুধু ফ্লুইড (ওষুধ) দিয়ে এই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারেন। বিশ্বে সিএপিডি পুরোনো ও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা পদ্ধতি হলেও দেশে খুব একটা পরিচিত নয়। তাই আধুনিক কিডনি চিকিৎসায় কার্যকর এ পদ্ধতি সম্পর্কে আরও বেশি প্রচারণার পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ফ্লুইডসহ আনুষঙ্গিক সামগ্রীর দাম কমাতে সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ চিকিৎসক ও রোগীদের।

 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. নুরুল হুদা পূর্বকোণকে বলেন, ‘পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিসকেই বলা হচ্ছে অত্যন্ত কার্যকর ও সহজ চিকিৎসা পদ্ধতি, যা একজন রোগী নিজে বাসায় বসেই করতে পারেন। দরকার পড়ে না কোনো চিকিৎসক, হাসপাতাল কিংবা যান্ত্রিক সহযোগিতা। এই চিকিৎসা ঘরে বসেই নেওয়া যায় এবং রোগী তার দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে পারেন। তাকে কিডনি ডায়ালাইসিসের জন্য হাসপাতালে ছুটতে হয় না।’

 

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সিএপিডি’র বেশ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম শহর থেকে দূরবর্তী স্থানের রোগীদের মাঝে এই পদ্ধতি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং রোগীদের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করবে। প্রথমবারের মতো ডায়ালাইসিস’র এই পদ্ধতি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থায় আরেকটি নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

 

পূর্বকোণ/আরডি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট