চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪

আসন কমেছে দেড় হাজার

ইমরান বিন ছবুর

২ নভেম্বর, ২০২৩ | ১২:০৩ অপরাহ্ণ

দিন দিন শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও নগরীর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে আসন সংখ্যা কমিয়ে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে নগরীর ১০ সরকারি বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আসন সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার ৪২৪টি। যা গত বছর ছিল তিন হাজার ৯১৮টি।

 

ফলে পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত নগরীর ১০ সরকারি বিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা কমেছে এক হাজার ৪৯৪টি। শতাংশের হিসেবে যা ৩৮ দশমিক ১৩ শতাংশ।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ২২ অক্টোবর ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা’ প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেখানে প্রতি শ্রেণির এক একটি শাখায় শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫৫ জন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। নীতিমালার এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে নগরীর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো আসন সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যে কারণে প্রায় প্রতি বছর আসন সংখ্যা বাড়লেও এবার উল্টো প্রায় দেড় হাজার কমে গেছে।

 

সবচেয়ে বেশি আসন কমেছে সিটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। এ বিদ্যালয়ে গত বছরের চেয়ে এবার ৩০০ আসন কমেছে। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে ২৪০টি, নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৩৮টি, বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৪২টি, ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও গভ. মুসলিম হাইস্কুলে ১২০টি আসন কমেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০৮টি, চট্টগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৬টি, হাজী মুহাম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮০টি এবং চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজে ১০টি আসন কমেছে এবার।

 

বিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা কমানোর বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম পূর্বকোণকে বলেন, নতুন কারিকুলামের আওতায় গ্রুপ করে করে শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কাজ করতে হবে। তাই এ কারিকুলামে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করলে প্রতিটি শ্রেণির এক একটি শাখায় আগের মত ৭০-৮০ জন শিক্ষার্থীকে একসাথে পাঠদান সম্ভব নয়। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এবার আসন সংখ্যা কমানো হয়েছে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছর নগরীর ১০টি সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য অনলাইনে দুই লাখ ৩৫ হাজার ৩১টি আবেদন জমা পড়ে। তিন হাজার ৯১৮টি আসনের বিপরীতে এসব আবেদন জমা পড়ে সে সময়। সে হিসেবে প্রতি আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে প্রায় ৬০টি। এবার আসন সংখ্যা দেড় হাজার কমে যাওয়ায় এ প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আসন কমানোয় ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরাও।

 

আগামী বছর সরকারি বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু ফরহাদুল হাকিম তৌসিফ। এ শিক্ষার্থীর অভিভাবক সৈয়দুল হাকিম পূর্বকোণকে বলেন, গত বছর ছেলেকে নগরীর সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে চেয়েও পারিনি। এখন যেহেতু ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই লটারির মাধ্যমে ভর্তি করানো হয়, তাই লটারিতে না আসলে আর কিছুই করার থাকে না। এখানে মেধার যাচাই হয় না।

 

তিনি বলেন, একদিকে লটারিতে ভর্তি চলছে। অন্যদিকে নতুন কারিকুলামের কারণে গত বছরের তুলনায় আসন অনেক কমে গেছে। যেখানে আসন বাড়ানো উচিত, সেখানে উল্টো কমানো হলো। আসন কমে যাওয়ায় ছেলেকে ভর্তি করাতে পারবো কিনা জানি না। সরকারের উচিত নতুন শিক্ষক পদ সৃষ্টি করে প্রয়োজনে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া। আসন কমানো ভালো সিদ্ধান্ত নয়।

 

পূর্বকোণ/আরডি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট