চট্টগ্রাম শনিবার, ১৫ জুন, ২০২৪

সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আজ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ অক্টোবর, ২০২৩ | ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ

অবশেষে স্বপ্নদুয়ার খুলতে যাচ্ছে আজ। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে টানেল যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। আজ শনিবার সকালে নগরীর পতেঙ্গা প্রান্তে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপরই তিনি আনোয়ারা প্রান্তে এসে জনসভায় যোগ দেবেন।

বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে নদীর তলদেশে নির্মিত প্রথম টানেল। কর্ণফুলী নদীর উভয় পাশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং চীনের সাংহাইয়ের আদলে চট্টগ্রামকে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই টানেলটি নির্মাণ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, স্বপ্নের টানেল নির্মাণের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামবাসীকে দেয়া ওয়াদা পালন করেছেন।  ২০০৮ সালে চট্টগ্রামে আয়োজিত নির্বাচনী এক জনসভায় ‘চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজের কাঁধে’ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তার আগ্রহে ফ্লাইওভার, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, আউটার রিং রোডের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম টানেল নির্মিত হয়েছে চট্টগ্রামে। আজ টানেল উদ্বোধনের মাধ্যমে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় আরেক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম। বাস্তবায়িত হচ্ছে ২০০৮ সালে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদা।

আজ বহু প্রতীক্ষিত টানেল উদ্বোধন ও জনসভাকে কেন্দ্র করে নগরীর পতেঙ্গা ও আনোয়ারা প্রান্তে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছবি, ব্যানার ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে আলোচ্য দুই জনপদ। গত দু- তিনদিন ধরে নগরীতে সাজ সাজ রব পড়েছে। সরকারের উন্নয়ন প্রচারণায় ট্রাকে ট্রাকে শোভাযাত্রা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে আনোয়ারা-কর্ণফুলী উপজেলা ছাড়াও আশপাশের উপজেলাগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। কয়েকদিন ধরেই আওয়ামী লীগ এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা মিটিং-মিছিল ও শো-ডাউনে ব্যস্ত সময় পার করেছেন।

খর¯্রােতা নদীতে টানেল নির্মাণ ছিল চ্যালেঞ্জিং : কর্ণফুলী নদীর মত খর¯্রােতা নদীতে কাজ করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কাজ ছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মাণ নিঃসন্দেহে আমাদের প্রকৌশলীদের সক্ষমতার প্রকাশ। এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম টানেল।

বাড়বে বিনিয়োগ, সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান : ইতোমধ্যে বড় বড় শিল্পগ্রুপ দক্ষিণ চট্টগ্রামে বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে। তারা কারখানা স্থাপনের জন্য জায়গা কিনেছে। ফলে কর্মসংস্থান হবে বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর। অর্থনৈতিক মন্দাভাব কেটে গেলে নতুন করে দক্ষিণ চট্টগ্রামে কলকারখানা স্থাপন শুরু হবে। দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকা দক্ষিণ চট্টগ্রামের জনসাধারণের জীবনমান উন্নত হবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রসঙ্গতঃ ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটারের এই টানেল পাড়ি দিতে সময় লাগবে ৩ থেকে সাড়ে ৩ তিন মিনিট। টানেলটি নদীর তলদেশের ১৮ থেকে ৩১ মিটার গভীরে। এটির ভেতরে গাড়ির সর্বোচ্চ গতি ৮০ কিলোমিটার থাকলেও প্রথমে গতিবেগ নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার।

দেশের প্রথম টানেলের নামকরণ করা হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পতেঙ্গা প্রান্তে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানেল নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয় ১০ হাজার ৩৭৪  কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে চার হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। বাকি পাঁচ হাজার ৯১৩  কোটি টাকা দিচ্ছে চীন সরকার। চীনের এক্সিম ব্যাংক ২ শতাংশ হারে ২০ বছর মেয়াদি এ ঋণ দিয়েছে। চীনের কমিউনিকেশন ও কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি) টানেল নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কর্ণফুলী নদীর দুই তীর সংযুক্ত করে চীনের সাংহাই শহরের আদলে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে টানেলটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। টানেল চালু হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে কক্সবাজারের যোগাযোগ সহজ হবে। নির্মাণের আগে করা সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানেল চালুর পর এর ভেতর দিয়ে বছরে ৬৩ লাখ গাড়ি চলাচল করতে পারবে। সেই হিসাবে দিনে চলতে পারবে ১৭ হাজার ২৬০টি গাড়ি। ২০২৫ সাল নাগাদ টানেল দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ২৮ হাজার ৩০৫টি যানবাহন চলাচল করবে। যার মধ্যে অর্ধেক থাকবে পণ্যবাহী পরিবহন। ২০৩০ সাল নাগাদ প্রতিদিন গড়ে ৩৭ হাজার ৯৪৬টি এবং ২০৬৭ সাল নাগাদ এক লাখ ৬২ হাজার যানবাহন চলাচলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৪ লেন করতে হবে :

টানেলের পুরো সুফল পেতে বর্তমান চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেন করতে হবে। এছাড়া, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ করতে হবে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার একটি এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করতে হবে। এক্সপ্রেসওয়ে হলে সময় ও খরচ দুটিই বাঁচবে। কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে গড়ে উঠেছে বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ চলছে। এসব প্রকল্প ঘিরে টানেল দিয়ে গাড়ির চাপ বাড়বে, যা বিদ্যমান চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক দিয়ে সামাল দেওয়া সম্ভব না।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট