চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪

সর্বশেষ:

পূর্বকোণ আয়োজিত ‘টেবিল টক’ এ বক্তারা

সাফল্য হাতছানি দিয়ে ডাকছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ অক্টোবর, ২০২৩ | ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ

সৈকতের শহর কক্সবাজার, পাহাড়-হ্রদে ঘেরা রাঙামাটি, মেঘের বাড়ি বান্দরবান কিংবা খাগড়াছড়ি ঘিরে চট্টগ্রাম হয়ে উঠছে দেশের বৃহত্তম ‘পর্যটন হাব’। এজন্য হোটেল খাতে বিপুল বিনিয়োগ হচ্ছে এখানে। তবে হোটেলের ‘ব্যাক বোন’ দক্ষ শেফ’র অভাব পূরণ হচ্ছে না। এ সংকট কাটাতে চট্টগ্রামে এখনই শেফ নিয়ে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্র তৈরি করা প্রয়োজন।

 

আন্তর্জাতিক শেফ দিবস উপলক্ষে দৈনিক পূর্বকোণ আয়োজিত ‘টেবিল টক’ এ অংশ নিয়ে শেফ ফাউন্ডেশনের নেতারা এসব কথা বলেন।

 

চট্টগ্রাম শেফ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েল ফুডের সিনিয়র শেফ আরাফাত হোসেনের সঞ্চালনায় ‘টেবিল টক’ এ অংশ নেন বেস্ট ওয়েস্টার্ন এলায়েন্সের এক্সিকিউটিভ শেফ জালাল আহমেদ, নো হয়্যার রেস্টুরেন্টের এক্সিকিউটিভ শেফ শফিক আলম, ওয়েল ফুডের এক্সিকিউটিভ শেফ মাসুদ রানা ও প্রফেশনাল কুকিং একাডেমির সহকারী ট্রেইনার তোয়াহা খানম।

 

জালাল আহমেদ বলেন, চট্টগ্রামে ১০০টি বড় হোটেল-রেস্টুরেন্ট আছে। সেখানে অন্তত ২০০ জন দক্ষ শেফ প্রয়োজন। কিন্তু এখানে ভালো মানের শেফ গড়ে না উঠায় ঢাকা বা বিদেশ থেকে শেফ আনতে হচ্ছে। তরুণরা মাস্টার্স শেষ করে ১০-১২ হাজার টাকা বেতনের চাকরির পেছনে ছুটছেন। কিন্তু শুরুতেই ২০-২৫ হাজার টাকা আয়ের সুযোগ থাকলেও শেফ পেশায় আসছেন না।

 

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের মতো উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হোটেল ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কোনো সাবজেক্ট নেই। বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি কলেজেও এ নিয়ে উচ্চ শিক্ষার তেমন সুযোগ নেই। বর্তমান সরকার যেভাবে কারিগরি শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিচ্ছে- আমি মনে করে ‘পর্যটন হাব’ চট্টগ্রামে শেফ নিয়ে এখনই উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।

 

আরাফাত হোসেন বলেন, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ঘিরে চট্টগ্রামে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে যত বেশি পর্যটক আসবেন- তত বেশি ভালো মানের হোটেল, শেফ প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে শেফ খাতে বড় সম্ভাবনা আমরা দেখতে পাচ্ছি। বিপুল পরিমাণ দক্ষ শেফ গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের প্রয়োজন।

 

তোয়াহা খানম বলেন, রান্না শিখে শুধু বড় হোটেলে শেফ নয়- ক্যাটারিং ব্যবসায়ও ভালো করছে মেয়েরা। চট্টগ্রামে ক্যাটারিং ব্যবসায় নিরব বিপ্লব ঘটেছে। এটি ধরে রাখতে শেফ তৈরি করার সুযোগ বাড়াতে হবে। অনেক তরুণ উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশ যেতে যান। তারাও যদি রান্না শিখে যান- বিদেশে বেকার থাকতে হবে না। পিআর পেতেও সহায়ক হবে।

 

শফিক আলম বলেন, শেফ হিসেবে যে আয় হয়- কিছু ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিতেও সেটা পাওয়া যায় না। এ খাতে কাজ করে ভালো আয় এবং সম্মান দুটোই পাচ্ছি।

 

মাসুদ রানা বলেন, মানুষকে খাইয়ে সন্তুষ্ট করা কঠিন কাজ। সেই কঠিন কাজটি করার ব্রত নিয়েই শেফ প্রফেশনে এসেছি। তবে সফল হতে হলে ধৈর্য ধরার কোনো বিকল্প নেই।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট