চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪

সর্বশেষ:

আওয়ামী লীগ-বিএনপি দু’দলেই বিরোধ প্রার্থিতা ঘিরে

খোরশেদ আলম শিমুল, হাটহাজারী

১৫ অক্টোবর, ২০২৩ | ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ আংশিক) আসনে সরকার দলীয় ও মহাজোট প্রার্থীর মধ্যে প্রকাশ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এছাড়া বিএনপিতে রয়েছে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলীয় কর্মসূচি ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে লোকজনের সাথে কুশল বিনিময় ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

বর্তমান মহাজোট থেকে গত নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বর্তমান মহাজোটের এমপি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবারও মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি শরিক দলের এমপি হওয়ায় সরকারি অনুষ্ঠান ছাড়াও প্রতিসপ্তাহে দুই থেকে ৩দিন হাটহাজারীর বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে যাচ্ছেন।

 

আওয়ামী লীগ : আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সালাম উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রতিনিধি সভা করে সংগঠনকে গতিশীল করার পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে লোকজনের সাথে কুশল বিনিময় চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ২ অক্টোবর হাটহাজারীতে বিশাল শোডাউন করেছেন তিনি। এম এ সালাম ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যাওয়ার পরও আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী বলে তিনি জানান। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালামের অনুসারীরা এবার তৃণমূল থেকে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে আসছেন। এছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল বলেন, আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেন। তিনি ২০০১ সালেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্প ভোটে হেরে যান। একই দলের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ইউনুস গণি চৌধুরীর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আলাদা একটি বলয় রয়েছে। তিনি বিভিন্ন ইউনিয়নে দলীয় অনুষ্ঠান এবং বর্তমান মহাজোটের এমপি’র সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করে এলাকার লোকজনের সাথে কুশল বিনিময় চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ২৬ আগস্ট একটি বিশাল শোডাউন করেছেন তিনি। এদিকে ২০১৮ সালের নির্বাচনে ইউনুচ গণি চৌধুরী আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেলেও শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্ত মেনে মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলামের পক্ষে কাজ করেন।

 

এছাড়া আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়ন চাইবেন উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বাস মালিক ফেডারেশনের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী মঞ্জু, জাতীয় শ্রমিক লীগ উত্তর জেলা সভাপতি এডভোকেট মোহাম্মদ শামীম, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জসিম উদ্দিন শাহ, আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদ সালাউদ্দিন চৌধুরী, মোহাম্মদ রাশেদুল আলম রাশেল প্রমুখ।

 

বিএনপি : বিএনপি থেকে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শোনা যাচ্ছে। এরা  হলেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, সাবেক এমপি মরহুম সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কন্যা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. ফাওয়াজ হোসেন শুভ।

 

গত ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  এ আসনে ২০ দলীয় জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। তিনি এবারও জোট থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। এ ছাড়া এই আসনে ইসলামী ঐক্যজোট, ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঈনুদ্দিন রুহী, জামিয়াতুল উলামায়ে ইসলামের মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির ও খেলাফত আন্দোলনের মীর ইদ্রিস, ইসলামী আন্দোলনের ইঞ্জিনিয়ার মো. রফিক, খেলাফত মজলিশ বাংলাদেশ এর শিহাব উদ্দিন নির্বাচন করতে আগ্রহী। এ ছাড়া ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী হিসাবে এড. মুখতার আহম্মদ সিদ্দিকীকে দলীয়ভাবে মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে দলের বর্ধিত সভায়। অপরদিকে ইসলামিক ফ্রন্টের শোনা যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সচিব অধ্যাপক ছৈয়দ হাফেজ আহমদ এর নামও।

 

সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছেন। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তাকে মাঠে প্রতি সপ্তাহে এলাকায় সরকারি অনুষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়।

 

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এ আসনটি এবারও মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিতে পারে আয়ামী লীগ। এতে কপাল পুড়তে পারে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের। সাবেক মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিয়ে ১ লাখ ৩২ হাজার ১৬৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম পান ১ লাখ ৬ হাজার ৯৭৫ ভোট। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৭৯, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালেও তিনি এ আসন থেকে এমপি হন। তবে ১৯৯১ সাল, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুন এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মরহুম সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম।

 

এদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অধীনে নির্বাচন ও দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে হাটহাজারীতে মাঠে রয়েছে বিএনপি। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দেয়ায় শেষ পর্যন্ত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণ করবে কিনা কেন্দ্রের উপর নির্ভর করছে। নির্বাচনে গেলে দলটি সারাদেশে জোটগতভাবে নির্বাচন করলেও হাটহাজারীতে এবার একক প্রার্থী দেবে বলে জানা গেছে। দল নির্বাচনে অংশ নিলে এ আসনে দলটির একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসির মনোনয়ন চাইবেন। তাকে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও দলীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। অপর বিএনপি নেতা এস এম ফজলুল হক উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের দলের একটি অংশকে নিয়ে আলাদাভাবে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। তিনিও মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

 

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীনের নেতৃত্বে হাটহাজারী উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্টাবার্ষিকীতে অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশাল শোডাউন করেছেন। তিনিও দল থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

 

বিএনপির অপর নেতা ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের দলের একটি অংশকে নিয়ে আলাদা ব্যানারে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। তিনিও মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

 

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড এবং হাটহাজারী উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে চট্টগ্রাম-৫ আসন গঠিত।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট