চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪

সর্বশেষ:

বছরের ব্যবধানে পাঁচ শিক্ষা সামগ্রীর দাম বেড়েছে ৪৩%

নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ অক্টোবর, ২০২৩ | ১২:২৮ অপরাহ্ণ

একবছরের ব্যবধানে অতি প্রয়োজনীয় পাঁচ শিক্ষাসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৩ শতাংশ। এরমধ্যে শুধু খাতার দামই বৃদ্ধি পেয়েছে ১০৫ শতাংশ। এছাড়া জ্যামিতি বক্সের দাম ৬৩ শতাংশ, বইয়ের দাম ৫০ শতাংশ, কলমের দাম ৩৩ শতাংশ ও স্কুলব্যাগের দাম ২৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

 

দাম বৃদ্ধির ফলে খাতা-কলমসহ এসব শিক্ষাসামগ্রী কিনতে হিমশিম খাচ্ছে মানুষ। শিক্ষার্থীদের অপরিহার্য এসব পণ্যের দাম অতিরিক্ত বৃদ্ধির কারণে অভিভাবকদের খরচের খাতা কাটছাঁট করতে হচ্ছে। বই-খাতা-কলমসহ এসব পণ্যের ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ।

 

এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে খাতার দাম। একবছরের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ দাম বেড়ে ২২০ টাকার এক রিম (পারটেক্স) খাতা বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকায়। ৩৫০ টাকার বসুন্ধরা খাতা বিক্রি হচ্ছে ৫৭০ টাকায়। এসব খরচ সমন্বয় করতে না পেরে সন্তানদের শিক্ষাসামগ্রী কেনা কমিয়ে দেয়ার পাশাপাশি কোচিং ও প্রাইভেট কমিয়ে দিচ্ছেন অভিভাবকরা।

 

গতকাল বুধবার নগরীর আন্দরকিল্লার বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায়, বই-খাতার পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি শিক্ষা-উপকরণের দাম বেড়েছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। মানভেদে খাতার দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। কলমের দাম বেড়েছে ডজনপ্রতি ৮ থেকে ২০ টাকা। মার্কিং করার ছোট কালার পেনের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা। আগে যে প্র্যাকটিকেল খাতা ৮০ থেকে ৮৫ টাকা ছিল, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৫০ টাকায়।

 

স্টিলের স্কেল ২০ টাকা ও প্লাস্টিকের স্কেলের দাম বেড়েছে ১০-১৫ টাকা। জ্যামিতি বক্সের দামও বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। আগে এক পৃষ্ঠা ফটোকপি করতে খরচ হতো দেড় থেকে দুই টাকা। এখন সেটি হয়েছে ৩ টাকা। এছাড়াও প্রতিটি প্লাস্টিক ফাইলের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। প্রতি ডজন পেনসিল ও রাবার ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে।

 

জানতে চাইলে আন্দরকিল্লার পাঠক বুকসের সেলসম্যান মো. হাবিব বলেন, গত একবছরে কাগজের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। প্রতিমাসেই বাড়ছে কাগজের মূল্য। দাম বাড়ায় ব্যবসাও কম হচ্ছে। অন্যদিকে, কাগজের দাম বাড়ায় বইয়ের দামও বাড়ছে। চলতিবছরে প্রায় সবধরনের বইয়ের দাম ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

 

বেসরকারি চাকরিজীবী মো. ইকবাল আজগর। তিন সন্তানের মধ্যে দুই সন্তান নগরীর একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়ছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার বিভিন্ন সামগ্রীর দাম বেড়েছে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ। আগে যে খাতা ২০ টাকা করে কেনা হতো, তা এখন ৩৫-৪০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ৮০ টাকার জ্যামিতি বক্স ১৩০ টাকা। এভাবে সব শিক্ষাসামগ্রীর দাম বেড়েছে।  এমনকি কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিউশন ফি, ভর্তিসহ অন্যান্য খরচও বাড়ানো হয়েছে। ফলে খরচ সমন্বয় করতে না পেরে সন্তানদের প্রাইভেট-কোচিং বন্ধ করে দিতে হচ্ছে আমাদের। শিক্ষাসামগ্রীর দাম বৃদ্ধির কারণে আমাদের মত স্বল্পআয়ের পরিবারের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

বেসরকারি এ চাকরিজীবী আরও বলেন, আমার দুই সন্তানের মধ্যে একজন পঞ্চম ও অন্যজন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। দু’জনের জন্য অনেক খাতার প্রয়োজন হয়। আগে তাদের জন্য বিভিন্ন কোম্পানির বাইন্ডিং খাতা কিনতাম। কিন্ত খরচ কমাতে দিস্তা খাতা কিনে দিচ্ছি। সেই দিস্তা খাতার দাম একবছরে প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।

 

জানতে চাইলে নগরীর রিয়াজুদ্দিন বাজারের আরশী লেদারের স্বত্বাধিকারী মো. জব্বার বলেন, শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত দেশি-বিদেশি সবধরনের স্কুলব্যাগের দাম গত ছয়মাস থেকে একবছরের ব্যবধানে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গতবছর যে চায়না ব্যাগ ১২শ থেকে দেড় হাজার বিক্রি করেছি, এখন সেসব ব্যাগে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া, দেশীয় লোকাল ব্যাগের দামও বেড়েছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা। ব্যাগের দাম বৃদ্ধির কারণে গতবছরের তুলনায় এ বছর বিক্রিও অনেক কমে গিয়েছে।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট