চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৪

সর্বশেষ:

শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিশক্তিতে প্রযুক্তির প্রভাব

ইমাম হোসাইন রাজু

১২ অক্টোবর, ২০২৩ | ১২:২১ অপরাহ্ণ

লাবিবার বয়স সবেমাত্র ১১। পড়ে নগরীর বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে। এখনই দূরের কিছু দেখতে কষ্ট হয় তার। দূরের বস্তু ঝাপসা দেখার পাশাপাশি মাথাব্যথাও হয় নিয়মিত। শরণাপন্ন হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ওষুধের পাশাপাশি নিয়মিত চশমা ব্যবহারের পরামর্শ দেন। যার কারণে এ বয়সেই চশমা ব্যবহার শুরু করে লাবিবা।

 

যে বয়সে দূরের দৃষ্টিশক্তি তৈরি হওয়ার কথা, সে বয়সে লাবিবার শক্তি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে অভিভাবকের বরাত দিয়ে চিকিৎসক জানান, জন্মগত কোন সমস্যা না হলেও অল্প বয়সেই দিনের বেশিরভাগ সময় মোবাইল ব্যবহার করে থাকে সে। খুব কাছ থেকে দীর্ঘসময় স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে অল্প বয়সেই দৃষ্টিশক্তির ওপর প্রভাব পড়েছে।

 

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু লাবিবার ক্ষেত্রেই নয়। কোভিডের পর থেকে বর্তমানে শিশু থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা বেড়েছে। মাথাব্যথা, ঘাড়ব্যথা, চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাওয়া, দূরের জিনিস কম দেখা, চোখের পানির পরিমাণ কমে যাওয়া (ড্রাই আই); এ পাঁচ সমস্যায় ভুগছে শিক্ষার্থীরা। স্মার্টফোন, ট্যাব, ভিডিও গেমসে মাত্রাতিরিক্ত আসক্তির কারণে এসব সমস্যায় ভুগছে বলেও মত চিকিৎসকদের।

 

সম্প্রতি দেশের ২১টি জেলায় এক হাজার ৮০৩ শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে আসে, ৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থী দিনে ২-৪ ঘণ্টা মোবাইলে সময় কাটাচ্ছে। নয়ভাগ কম্পিউটার স্ক্রিনে ও আটভাগ ট্যাবে দিনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে মাথাব্যথা, হাত-পা ব্যথা, ঘুমের সমস্যা। প্রভাব পড়েছে দৃষ্টিশক্তির ওপরও। গবেষণার তথ্য-উপাত্ত বিশ্নেষণে এসব শারীরিক সমস্যার পেছনে ঘরবন্দী থাকা এবং গ্যাজেটের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তির উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া যায়।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘসময় ধরে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের কারণে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে এর প্রভাব শিশুদের মধ্যে খুবই ভয়াবহ। মোবাইলসহ ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের কারণে শিশুদের স্মৃতি ও দৃষ্টিশক্তিও দ্রুত লোপ পায়। পাশাপাশি মানসিক সমস্যাসহ শারীরিকভাবেও সমস্যায় ভুগতে পারে তারা।

 

পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলজি বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. খুরশীদ আলম বলেন, অনেক দূর থেকে টেলিভিশন দেখলেও মোবাইল, ট্যাব ও ল্যাপটপ দেখতে হয় খুব কাছ থেকেই। আর এতে করে চোখের ওপর একটা তীব্র প্রেশার তৈরি হয়। এর কারণে চোখের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতেও অতিরিক্তভাবে তিন-চারগুণ চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে দ্রুত দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা শুরু হতে থাকে। এক্ষেত্রে শিশুদেরই বেশি সমস্যা তৈরি হয়। হাসপাতাল ও ব্যক্তিগত চেম্বারে যত শিশু আসে, তাদের হিস্ট্রি বলে দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ব্যবহারের কারণেই তারা এ সমস্যায় ভুগছে।  এক্ষেত্রে অবশ্যই অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।

 

একই ভাষ্য ছিল চট্টগ্রাম জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াজেদ চৌধুরী অভির। তিনি বলেন, অভিভাবকের সচেতনতা সবচেয়ে বেশি হতে হবে। শিশুদের কম ডিভাইস ব্যবহার করতে দিতে হবে। খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলতে হবে। এছাড়া স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকেও মনোযোগী হতে হবে। পাশাপাশি চোখের সমস্যা থাক বা না থাক, কিছুদিন পর পর চোখ পরীক্ষা করিয়ে নেয়া ভালো।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট