চট্টগ্রাম রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

এবার চাল চুরি বন্ধে ১০ সেকেন্ডের ভিডিও

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ অক্টোবর, ২০২৩ | ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

খাদ্য অধিদপ্তরের চাল পথিমধ্যে হাওয়া হয়ে যাওয়ার গল্প অনেক পুরোনো। খাদ্য বিভাগের গুটিকয়েক অসাধু কর্মকর্তা, গুদাম কর্মকর্তা ও কালোবাজারি সিন্ডিকেটের যোগসাজশে সরকারি চাল চুরির ঘটনা ঘটে আসছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বার বার সরকারি চাল আটক হলেও বন্ধ হচ্ছে না চাল চুরির ঘটনা। এবার সরকারি চাল-গম চুরি ঠেকাতে নতুন কায়দা চালু করেছে খাদ্য বিভাগ। গুদাম থেকে গুদামে চালবাহী ট্রাক ছেড়ে যাওয়া ও পৌঁছানোর ১০ সেকেন্ডের ভিডিওচিত্র পাঠানোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। 

 

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এসএম কায়ছার আলী গতকাল পূর্বকোণকে বলেন, ‘খাদ্য গুদাম থেকে চাল-গম নিয়ে ট্রাক ছেড়ে যাওয়া এবং পৌঁছানোর ভিডিওচিত্র পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দুই গুদামের ১০ সেকেন্ড করে ভিডিও ও ছবি পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে ইনভয়েস গ্রহণ করার ছবিও পাঠাতে হবে। অন্যথায় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেকঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে হোয়াটসআপে ভিডিও এবং ছবি পাঠাতে হবে। তা মনিটরিং করার জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিদিন ৩-৪শ ভিডিওচিত্র আসছে। লোকবল সংকটে তা মনিটরিং করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।’  খাদ্য বিভাগের গুটিকয়েক অসাধু কর্মকর্তা ও পরিবহন ঠিকাদারের যোগসাজশে চাল পাচার থামছে না বলে জানান একাধিক পরিবহন ঠিকাদার।

কেন এই উদ্যোগ

২৪ আগস্ট রাত ৯টার দিকে ৯০০ বস্তা সরকারি চাল নিয়ে তিনটি ট্রাক রওনা হয়েছিল খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে। নগরীর হালিশহর কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদাম (সিএসডি) থেকে চাল নিয়ে ট্রাকগুলো রওনা দেয়। কিন্তু পরদিন (২৫ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সীতাকু- থানার ফৌজদারহাট সংলগ্ন মডার্ন ন্যাশনাল কটন মিলসের ভেতরে আনলোড করার প্রস্তুতির সময় পুলিশ আটক করে। সরকারি চাল চুরির এই ঘটনায় সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

 

চাল চুরির এ ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও চাল চুরির একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ২০১৭ সালে হালিশহর কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদাম (সিএসডি গুদাম) থেকে চাল পাচারকালে বিপুল সংখ্যক চাল আটক করেছিল র‌্যাব। এসময় গুদাম ম্যানেজার প্রণয়ন চাকমা ও সহকারী ম্যানেজার ফখরুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০২০ সালের এপ্রিলে পাহাড়তলী বাজার থেকে ২১ বস্তা সরকারি ত্রাণের চাল আটক করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চাল ব্যবসায়ী মেসার্স ফারুক ট্রেডার্স থেকে তা উদ্ধার করা হয়েছিল। ২০২১ সালের ২১ এপ্রিল পাহাড়তলী বাজার থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সরকারি ৭০ হাজার কেজি চাল জব্দ করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ। গত বছরের ২৮ জুন নগরীর চাক্তাই রাজাখালীর মোশাররফ হোসেন রোডে সরকারি খাদ্যবান্ধব চাল পাচারকালে আটক করেছিল পুলিশ। মেসার্স বেলাল ট্রেডিংয়ের মালিক যুবলীগ নেতা মো. বেলাল উদ্দিনের গুদামে খালাসের সময় পুলিশ তা আটক করে। এছাড়াও গত ১৭ মে পটিয়ার কচুয়াই ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে এক ট্রাক চাল আটক করেছিল পটিয়া থানা পুলিশ। এভাবে সরকারি চাল আটক করা হলেও আড়ালে থেকে যায় বাঘর-বোয়ালরা। বন্ধ হয় না চাল চুরি। এমন পরিস্থিতিতে এবার অভিনব কৌশল নিয়েছেন আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা।

 

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এসএম কায়ছার আলী বলেন, চট্টগ্রাম থেকে আশপাশের জেলায় খাদ্যশস্য পাঠানোর সময় সরকারি চাল কালোবাজারে চলে যাচ্ছে। এ নিয়ে আমরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছি। তাই খাদ্যশস্য নিয়ে গুদাম থেকে যাওয়া ও গন্তব্যে পৌঁছানেরার পর ট্রাকের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভিডিও না পাঠালে ধরে নেওয়া হবে, বোঝাইকৃত খাদ্যশস্য নির্দিষ্ট গুদামে পৌঁছায়নি। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পরিদর্শক ও জড়িতদের কারণ দর্শানো ছাড়াই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন