চট্টগ্রাম শনিবার, ১৫ জুন, ২০২৪

জট খুলছে জলাবদ্ধতা প্রকল্পের

ইমরান বিন ছবুর

১১ অক্টোবর, ২০২৩ | ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ

অর্থ সংকটে থমতে থাকা চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের  জটিলতা কাটতে যাচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার এ প্রকল্পের সময় ও অর্থ বৃদ্ধির জন্য সংশোধিত ডিপিপি প্রি-একনেক সভায় ওঠছে। এতে অনুমোদনের পর তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি’র (একনেক) সভায়। সেখানে অনুমোদন হলে এই প্রকল্পের গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এদিকে, গত জুন মাসে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে নতুন করে বরাদ্দ আসেনি প্রকল্পে। তাই চলতি অর্থবছরে প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ থাকা ৫৮০ কোটি টাকা ছাড় করেনি মন্ত্রণালয়। ফলে অর্থ সংকটে জুনের পর থেকে চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে কাজ করতে পারছে না প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

 

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লে. কর্নেল মো. শাহ্ধসঢ়; আলী বলেন, অর্থ সংকট ও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় চলতি বছরের জুন মাসের পর থেকে নতুন করে আমরা প্রকল্পের কাজ করতে পারিনি। তাই কাজের গতি আনতে আরডিপিপির জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। আরডিপিপি বর্তমানে প্ল্যানিং কমিশনে রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার প্রি-একনেক কমিটির সভায় এটি অনুমোদন হলে পরবর্তীতে তা একনেকে পাঠানো হবে। একনেকে অনুমোদন হলে এই প্রকল্পের মেয়াদ ও অর্থ বৃদ্ধি পাবে। তাহলে আর কোন জটিলতা থাকবে না। তিনি আরো বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ না থাকায় এই বাজেটে আমরা নতুন করে কোন অর্থ পাইনি। আরডিপিপি অনুমোদন না হলে তো অর্থ পাওয়ারও সুযোগ নেই। ফলে আমরা কাজও করতে পারছি না। আমরা আশা করছি আরডিপিপি অনুমোদন হলে আমরা দ্রুত গতিতে কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো।

 

প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৭৬ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। এরমধ্যে ১৭টি খালের রিটেইনিং ওয়ালের কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া, আরো ৮ থেকে ৯টি খালের রিটেইনিং ওয়ালের কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে। রিটেইনিং ওয়ালের কাজ ছাড়াও আমরা কালভার্ট ও ব্রিজ নির্মাণের কাজ করেছি।

 

ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কথা উল্লেখ কলে লে. কর্নেল শাহ আলী বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আমরা এখনো পর্যন্ত অনেক খালেই কাজ করতে পারিনি। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা কেটে গেলে আমরা বাকি খালগুলোতেও কাজ করতে পারবো। এই প্রকল্পের অধীনে আমাদের দুই হাজার কোটি টাকার বেশি ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে।

 

জানা যায়, একনেক সভায় অনুমোদন না পেলে প্রকল্পটির কাজ একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থ সংকটে বর্তমানে প্রকল্পের কাজ অনেকটা থমকে আছে। অন্যদিকে, প্রকল্পভুক্ত ৩৬ খালের মধ্যে মাত্র ১৭টি খালের কাজ শেষ হয়েছে। এরমধ্যে শহরের সিংহভাগ এলাকার পানি নিষ্কাশন হওয়া চাক্তাই খালও রয়েছে। প্রকল্পের কাজ শুরু করা না গেলে শহরের জলাবদ্ধতা সমস্যা দূর না হওয়ার শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, এই প্রকল্পের অধীনে ৩৬টি খাল রয়েছে। এরমধ্যে ১৭টি খালের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। এছাড়াও আরো ৯টি খালের কাজ শেষের পথে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় এখনো ১১ খালের কাজ বাকি রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ করা না গেলে এই ১১ খালের শেষ করা সম্ভব না বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

 

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সিডিএ’র ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক। তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় শেষ হয় ২০২০ সালের জুন মাসে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর ও ব্যয় বাড়িয়ে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানা যায়। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২০১৮ বছরের ৯ এপ্রিল সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষর করে সিডিএ। এরপর ২৮ এপ্রিল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে প্রকল্পের ৭৬ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট