চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

সর্বশেষ:

বাঁশখালী শুক্রবারের প্রতিবেদন

প্রতিবন্ধী ৪ সন্তান নিয়ে জীবনসংগ্রাম আয়েশার

অনুপম কুমার অভি, বাঁশখালী

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ১:০৪ পূর্বাহ্ণ

বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছাপাছড়ি গ্রামে একে একে ৪ প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম দিয়ে তাদের লালন-পালনে সংগ্রামী জীবন অতিবাহিত করে চলেছেন নুর আয়েশা বেগম। ১২ বছর আগে ২০০৭ সালে তার স্বামী আবদুল আলিম মারা গেলে নুর আয়েশার জীবন হয়ে পড়ে আরো সংগ্রামময়। তার প্রতিবন্ধী সন্তানদের মধ্যে ৩ ছেলে ১ মেয়ে। তারা সকলেই মানসিক, শারীরিক, বাক ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। ছোটবেলা থেকে এই ৪ সন্তানকে একে একে মানুষ করেছে পিতা-মাতা। ছেলে-মেয়ে মোহাম্মদ বেলাল (৩৬), কাউছারা বেগম (২৬), জিয়াউল হক (২২) ও মোহাম্মদ আরাফাতকে (১৮) শিক্ষার আলোও দেখাতে পারেননি পিতামাতা। ছোটবেলা থেকে সংসারের ভরণ পোষণের জন্য বেশিরভাগ সময়ে ভিক্ষাবৃত্তিই করতে হয়েছে মাকে। সরকারিভাবে দীর্ঘদিন থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা বঞ্চিত হলেও কয়েক বছর ধরে মো. বেলাল ও কাউছারা বেগম ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক সহযোগিতায় প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে। আটচালা ভাঙা ঘরটি বেসরকারি সংস্থা ইপসা থেকে তৈরি করে দেয়া হয়েছে।

মা নুর আয়েশা বেগম জানান, সংসারের ভরণ-পোষণের ঘানি টানতে গিয়ে জীবনে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে জীবন চলা। সন্তানদের বড় করতে গিয়ে অনেকের কাছে হাত পাততে হয়েছে। নিজের বসতভিটেটুকুও ছিল না। ইপসা সংস্থা থেকে বসতঘর তৈরি করে দেয়া হয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলার সদ্য বদলি হওয়া সমাজসেবা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, প্রতিবন্ধীদের তালিকা সংগ্রহ করে সরকারিভাবে ভাতা প্রদান করা হয়। এই পরিবার থেকে ২ জন ভাতা পাচ্ছে। তবে তাদের সংসার অন্য ধরনের।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাজুল ইসলাম জানান, প্রতিবন্ধী ৪ সন্তান নিয়ে আবদুল আলিম ও তার স্ত্রী নুর আয়েশার সংসার অনেক কষ্টের। মানুষ মানুষের জন্য এই চিন্তা-ভাবনায় পরিষদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ভাতা সহায়তা ছাড়াও চাল দেয়া হয়ে থাকে। তবে কোন বিত্তবান লোক এগিয়ে আসলে হয়তো এই পরিবারটি আলোর মুখ দেখবে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট