চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

কেজিডিসিএল’র জিএম গৌতম চন্দ্র কুন্ডকে দুদকে তলব

ইমাম হোসাইন রাজু

১৪ আগস্ট, ২০২৩ | ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রকৌশলী গৌতম চন্দ্র কুন্ডকে তলব করেছে দুদক। ঘুষ গ্রহণ ও বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে নামে-বেনামে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের বিষয়ে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান চালাচ্ছে সংস্থাটি। আগামী ১৬ আগস্ট দুদক চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ এ হাজির হয়ে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য প্রদানের পাশাপাশি দুদকের চাহিদা মোতাবেক বিভিন্ন নথিপত্র দাখিল করতে বলা হয়েছে। দুদক ও কেজিডিসিএল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

সূত্রে জানা যায়, ঘুষ গ্রহণ ও বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে গত জুলাইয়ে প্রকৌশলী গৌতম চন্দ্র কুন্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ পায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরপরই অনুসন্ধান শুরু করে সংস্থাটি। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গৌতম চন্দ্র কুন্ডকে চিঠি দেয় দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদক চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক মো. এমরান হোসেন।

 

চিঠিতে বলা হয়, ঘুষ গ্রহণ ও বিভিন্ন অনিয়ম এবং দুর্নীতির মাধ্যমে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধানের স্বার্থে বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। এ জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এ হাজির হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়।

 

এছাড়াও চিঠিতে নিজ ও স্ত্রী সন্তানদের জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন সনদ, পাসপোর্টের ফটোকপি, আয়কর নথি ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র, অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের ক্রয়-বিক্রয়ের দালিলাদির ছায়ালিপি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলে তার ট্রেড লাইসেন্সের সত্যায়িত কপি, ব্যবসা, চাকরি ও অন্যান্য আয়ের উৎসের রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত ছায়ালিপি এবং বিভিন্ন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা সঞ্চয়ী, চলতি বা অন্য কোন হিসাবের হালনাগাদ ব্যাংক হিসাব বিবরণী চাওয়া হয়েছে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই যুগের বেশি সময় সরকারি চাকরিতে কর্মরত প্রকৌশলী গৌতম চন্দ্র কুন্ড গ্রাহকদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির মাধ্যমে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এরমধ্যে রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ি ও বাংলা কলেজ সংলগ্ন এলাকায় নামে-বেনামে প্রায় ৪০ কাঠা জমি ক্রয় করেন তিনি। চাঁদপুরে চার কোটি টাকা মূল্যের ৮টি ফ্ল্যাটের একটি বাড়ি ক্রয় করেন। মেয়েকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সুবাদে অর্থ পাচারের অভিযোগও করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে অস্বাভাবিক লেনদেন, ব্যবসা পরিচালনা, চাঁদপুর ও ঢাকায় দোকান ক্রয়সহ বিভিন্ন অভিযোগ করা হয় এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

 

অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রকৌশলী গৌতম চন্দ্র কুন্ড পূর্বকোণকে বলেন, ‘২৭ বছর ধরে চাকরি করছি। আমি বুক ফুলিয়ে বলতে পারি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে চাকরি করছি। চাকরি জীবনে একটা শোকজও আজ পর্যন্ত কেউ করেনি। স্বচ্ছতা ও জাবাবদিহিতা কত প্রকার, তা আমি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করে আসছি। আমি এমন কোন কাজ করি না, যেটি আমার পরিবার কিংবা আমার সন্তানদের উপর প্রভাব পড়ে। আমার জন্য হয়তো কারও সমস্যা হচ্ছে, তারা হয়তো আমার কারণে নয়-ছয় করতে পারছেন না, সে জন্য আমার বিরুদ্ধে লেগেছে। পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। আমার মনে হয় মুষ্টিমেয় ৫/৭ জন ছাড়া কেউ আমার সম্পর্কে খারাপ বলতে পারবে না।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট