চট্টগ্রাম বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

ভাগ্যের ওপর ভাসছে ‘পানগাঁও এক্সপ্রেস’

নিজস্ব প্রতিবেদক

৬ আগস্ট, ২০২৩ | ১:২৯ অপরাহ্ণ

গত জুলাই মাসের ৬ তারিখ সকালের দিকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যবাহী কনটেইনার নিয়ে ঢাকার পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনালে যাওয়ার পথে নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরের কাছে আংশিক ডুবে যায় বন্দরের মালিকানাধীন জাহাজ ‘পানগাঁও এক্সপ্রেস’। বৈরি আবহাওয়ায় ডুবে যাওয়া সেই জাহাজটি আজ এক মাসেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এমনকি ওই জাহাজে থাকা কনটেইনারের পণ্যগুলোর কি অবস্থা, তাও স্পষ্ট কেউ বলতে পারছে না। এখন সেই জাহাজটিকে ভাগ্যের ওপরেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছে, জাহাজটি উদ্ধারে সব ধরণের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে কোনভাবেই আবহাওয়া অনুকুলে আসছে না। এখন ভাগ্য ভালো থাকলেই কেবল জাহাজটি উদ্ধার করা সম্ভব।

 

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জাহাজটি জোয়ারের সময় পুরোপুরি ডুবে থাকে। ভাটা অবস্থায় অল্প একটু দৃশ্যমান হয়। যেহেতু একমাস ধরে কনটেইনারগুলো পানির নিচে, তাই কনটেইনারের ভেতরে পণ্য ভালো থাকার আশা না করাই ভালো। আর এতেই বোঝা যায়, ওই কনটেইনারগুলোর আমদানিকারদের করুন দুর্দশা। কোটি টাকার পণ্য পানির নিচেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

 

জাহাজটিতে ৭২ বক্সে মোট ৯৬ টিইইউস কনটেইনার ছিল। এরমধ্যে দুর্ঘটনার পর পরই তিনটি কনটেইনার ভাসতে দেখা যায়। যার মধ্যে একটি ভাসানচরে আটকে যায়। যেটিতে ছিল চায়না থেকে আনা আর্টিফিশিয়াল ফুল। সেই কনটেইনার কেটে কেউ কেউ সেই ফুল নিয়ে বিক্রিও করে দিয়েছে। আরেকটি কনটেইনার উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। তবে জাহাজের বাকি কনটেইনারগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু বলতে পারছেন না জাহাজটি পরিচালকারী সংস্থা সি গ্লোরি লাইন লিমিটেড।

 

গতকাল শনিবার শিপিং এজেন্ট সি গ্লোরি লাইন লিমিটেডের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পূর্বকোণকে বলেন, ‘আমরা জাহাজ উদ্ধারে একটি কোম্পানিকে নিয়োগ দিয়েছিলাম। সাগর শান্ত না হওয়া পর্যন্ত জাহাজটির উদ্ধারকাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। পরবর্তিতে এই কাজে অভিজ্ঞ অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারাও উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সাথে সহযোগিতা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে জাহাজের ওই অবস্থানে যাওয়াটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। ৩ নম্বর সতর্ক সংকেতে সাগর উত্তাল থাকায় জাহাজের স্থানে গিয়ে কাজ করা সম্ভব হচ্ছেই না। সাগর একটু শান্ত থাকলেও বড়জোর ২ থেকে ৪ ঘণ্টা উদ্ধার কাজ করা সম্ভব হয়। ফলে দ্রুত জাহাজটি উদ্ধার সম্ভব হয়নি।

 

জাহাজটিতে কী পরিমাণ পণ্য আছে বা কোন ধরনের পণ্য আছে, সে বিষয়ে শিপিং এজেন্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেননি। তবে কাস্টমসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, পানগাঁও-চট্টগ্রাম রুটে পরিবহন হওয়া বেশির ভাগ পণ্যই গার্মেন্ট এক্সেসরিজ, র কটন বা সুতার কাঁচামাল এবং কিছু বাণিজ্যিক আমদানি পণ্য।

 

এদিকে দুর্ঘটনা তদন্তে সরকারের নৌ বাণিজ্য দপ্তরের একজনকে প্রধান করে গঠিত তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি কাজ করেছে। জাহাজের আইজিএম থেকে জানা গেছে, জাহাজে মায়ের্কস লাইনের ৩৩টি, মেডিটেরানিয়ান শিপিং কোম্পানির (এমএসসি) ৩২টি, অল পোর্টের ৯টি, সিএমএ-সিজিএমের ছয়টি, সিএসআইয়ের ১০টি, ওওসিএলের তিনটি, এবং ম্যাক্সিকনের একটি কনটেইনার আছে।

 

পূর্বকোণ/মাহমুদ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট