চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০২৪

সর্বশেষ:

আরাম-গতি দুটোই বাড়বে ট্রেনে

মিজানুর রহমান

১৬ জুলাই, ২০২৩ | ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ

আরো আরামদায়ক ও দ্রুতগতির হচ্ছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার রেল যোগাযোগ। বহুল প্রতীক্ষিত লাকসাম-আখাউড়া ডাবললাইন রেলপথ চালু হতে যাচ্ছে চলতি মাসেই। আগামী ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথের উদ্বোধন করতে পারেন। এর মাধ্যমে আরামদায়ক ও দ্রুতগতির ট্রেনে চড়ার যে স্বপ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের যাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে দেখছিলেন, সেই স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে।

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, রেলওয়ের এই প্রকল্পটি চালু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে উচ্চতর এক্সেল লোকোমোটিভ দিয়ে ট্রেন পরিচালনা করা যাবে। সবচেয়ে লাভজনক এই রেলপথে ট্রেন চলাচলের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে। লাইন ক্যাপাসিটি ২৩ জোড়া থেকে বেড়ে ৭২ জোড়ায় উন্নীত হবে। এছাড়া সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে- চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত পুরো রেলপথ ডাবললাইনে রূপান্তরের ফলে যাত্রার সময় অনেকাংশে কমে আসবে।

 

এখন যাত্রীবাহী আন্তঃনগর ট্রেনে চড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে যাতায়াতে সময় লাগে ৫-৬ ঘণ্টা। আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ডাবললাইন রেলপথ চালু হলে মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাতায়াত করা যাবে। এছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মালামাল (কনটেইনার) পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। ট্রেন লাইনচ্যুতির কারণে একটি লাইন বন্ধ থাকলেও অপরটি চালু থাকবে। ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমে আসবে।

 

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- রেলপথে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দূরত্ব ৩২১ কিলোমিটার। এরমধ্যে ১১৮ কিলোমিটার রেলপথ আগে থেকেই ডাবললাইন ছিলো। ২০০৯ সালের পর কয়েকটি প্রকল্পের মাধ্যমে আরো ১৩১ কিলোমিটার সিংগেল লাইন রেলপথ ডাবললাইন করা হয়। বাকি ৭২ কিলোমিটার সিংগেল লাইন রেলপথ ডাবললাইন করতে ২০১৪ সালে নতুন প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে।

 

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লার লাকসাম থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ডাবললাইন নির্মাণ প্রকল্প ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর একনেকের সভায় অনুমোদন পায়। নির্মাণকাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় সিটিএম জয়েন্ট ভেঞ্চারকে। সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। দুটি ভাগে সিটিএম জয়েন্ট ভেঞ্চারের প্রতিষ্ঠান তমা ও ম্যাক্স কাজ শুরু করে।

 

করোনা মহামারীসহ নানা কারণে প্রকল্প কাজে বিঘ্ন ঘটায় কয়েক দফায় চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল এই প্রকল্পের। তবে এরমধ্যেই ২০২১ এর ২৫ সেপ্টেম্বর লাকসাম থেকে কুমিল্লা অংশের ২৩ কিলোমিটার রেলপথ উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। এছাড়া চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি কসবা থেকে মন্দবাগ এবং শশীদল থেকে রাজাপুর অংশের ১৬ কিলোমিটার রেলপথ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

আগামী ২০ জুলাই রাজাপুর থেকে কুমিল্লা এবং কসবা থেকে আখাউড়া অংশের ৩৩ কিলোমিটার রেলপথ উদ্বোধন করা হবে। এর মাধ্যমে ৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ লাকসাম-আখাউড়া ডাবললাইন রেলপথের পুরোটায় চালু হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক মো. সুবক্তগীন। তিনি পূর্বকোণকে জানান, বহুল প্রতীক্ষিত লাকসাম-আখাউড়া ডাবললাইন রেলপথের কাজ ৯৮ ভাগের বেশি শেষ। ২০ জুলাই এই প্রকল্প উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

 

রেলওয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে পূর্বকোণকে বলেন, গত শনিবার রেলসচিব হুমায়ূন কবীর লাকসাম-আখাউড়া ডাবললাইন রেলপথ পরিদর্শন করেছেন। এ সময় প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন রেলসচিব। আগামী ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই রেলপথের উদ্বোধন করতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

পূর্বকোণ/মাহমুদ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট