চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪

চট্টগ্রাম মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র : স্বাবলম্বী হতে জোগাচ্ছে স্বপ্ন-সাহস

মরিয়ম জাহান মুন্নী

১৫ জুলাই, ২০২৩ | ১২:০৫ অপরাহ্ণ

শিক্ষার্থী রেহানা আক্তার ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করছেন। কিন্তু বর্তমান চাকরির বাজার যে খুব কঠিন তিনি তা ভালো করেই জানেন। যে কারণে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির জন্য যেন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে না হয় সেজন্য আগে থেকেই কিছু করতে চান তিনি। যেই ভাবা সেই কাজ। প্রস্তুতি নিতে চট্টগ্রাম মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর প্রশিক্ষণ নেন। এরপর চাকরির জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেন। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে শিকলবাহা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে যোগ দেন।

 

শুধু তিনিই নয়, গত এক বছরে আলোচ্য কেন্দ্রটি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে শাহরিয়ার আহমেদ, রিয়া আক্তার বেবি, সৈয়দা আরজুমান সুলতানা ও বৈশাখি নন্দিসহ ১ হাজার ২৭৪ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজে স্বাবলম্বী হয়েছেন পাশাপাশি অন্যদেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন।

 

চট্টগ্রাম মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১১টি কারিগরি বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ নিয়েছে ৪ হাজার ৬৪১ জন প্রশিক্ষণার্থী। তবে সব চেয়ে বেশি প্রশিক্ষণ নিয়েছে করোনা পরবর্তী সময় ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে। এ বছর ১ হাজার ২৭৪ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে ৫ শতাধিক বেকার তরুণ-তরুণী বিভিন্নভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। বাকি শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজের জন্য চলে গেছেন দেশের বাইরে।

 

চট্টগ্রাম মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রিন্সিপাল আশরিফা তানজিম বলেন, করোনার পরে টেকনিক্যাল বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের আগ্রহ বেড়েছে। কারণ প্রশিক্ষণ শেষেই অনেকে উদ্যোক্তা হচ্ছেন। আবার অনেক শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নামি-দামি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। বাকিরা প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন।

 

তিনি আরো বলেন, এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ই-কর্মাসের মাধ্যমে অল্প পুঁজি দিয়েই তরুণরা উদ্যোক্তা হয়ে উঠছেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। আমাদের এমন অনেক শিক্ষার্থী আছেন যারা উদ্যোক্তা হয়েছেন। তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে অন্যদের কর্মসংস্থানও হয়েছে। আবার অনেকে দেশের ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন।

 

আফরোজা আক্তার নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, এখানে কম্পিউটার অপারেশন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ফুড এন্ড বেভারেজ সার্ভিস, সুইং মেশিন অপারেশন, প্যাটার্ন এন্ড ডিজাইন, ফুড প্রসেসিং এন্ড প্রিজার্ভেশন, বিউটিফিকেশন, ব্লক বাটিক ও মোটর ড্রাইভিংসহ আরো কয়েকটি বিষয়ের উপর শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে ১৩ হাজার টাকা ভাতাও দেয়া হয়। আমি সুইং মেশিন অপারেশনের উপর প্রশিক্ষণ নিয়েছি। সেই টাকা দিয়েই একটি সেলাই মেশিন কিনেছি। আমি ঘরে বসেই বিভিন্ন দোকানের অর্ডার নিই।

 

আরেক শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ। তিনি গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরপরই পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে চাকরি হয়। প্রশিক্ষণে শেখা কাজ তার কর্মস্থলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানে সহায়তা করছে।

 

আবার প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেই উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন সৈয়দা আরজুমান সুলতানা। তিনি বলেন, আমি গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল সুইমিং সেকশনের উপর প্রশিক্ষণ নিই। আগ্রাবাদে মাহি ফ্যাশন বুটিক এন্ড বিউটি পার্লার নামে আমার একটি প্রতিষ্ঠান আছে। যেখানে ১১ জন কর্মী কাজ করেন।

পূর্বকোণ/মাহমুদ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট