চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০২৪

সর্বশেষ:

বৈশ্বিক সংকটে কমেছে হ্যান্ডলিং

সারোয়ার আহমদ

৩ জুলাই, ২০২৩ | ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও দেশে ডলার সংকটে আমদানি কমে যাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে। সদ্য বিদায়ী ২০২২-২০২৩ অর্থবছর শেষে দেখা যায় চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। এছাড়া কার্গোতে শূন্য দশমিক ১০ এবং জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যা এর আগের অর্থবছর ২০২১-২০২২ এ ছিল কনটেইনারে ৫ দশমিক ১১, কার্গোতে ৩ দশমিক ৯১ এবং জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে ৪ দশমিক ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।

 

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে (২০২২-২০২৩) চট্টগ্রাম বন্দর কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে ৩০ লাখ ৭ হাজার ৩৪৪ একক। যা এর আগের অর্থবছর (২০২১-২০২২) ছিল ৩২ লাখ ৫৫ হাজার ৩৫৮ একক। অর্থাৎ সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে এর আগের অর্থবছরের তুলনায় ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৪ একক কনটেইনার কম হ্যান্ডলিং হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে।

 

অন্যদিকে বিদায়ী অর্থবছরে (২০২২-২০২৩) কার্গো বা খোলা পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে ১১ কোটি ৮২ লাখ ৯৬ হাজার ৭৪৩ মেট্রিক টন। যা এর আগের অর্থবছর (২০২১-২০২২) ছিল ১১ কোটি ৮১ লাখ ৭৪ হাজার ১৬০ মেট্রিক টন। অর্থাৎ সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে এর আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ২২ হাজার ৫৮৩ মেট্রিক টন কার্গো বেশি হ্যান্ডলিং হয়েছে।

 

একইভাবে কিছুটা বেড়েছে জাহাজ হ্যান্ডলিংও। বিদায়ী অর্থবছরে (২০২২-২০২৩) জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে ৪ হাজার ২৫৩টি। যা এর আগের অর্থবছরে (২০২১-২০২২) ছিল ৪ হাজার ২৩১ টি। অর্থাৎ সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে ২২টি জাহাজ বেশি এসেছে।

 

কনটেইনারে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি ও তুলনামূলকভাবে কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিং কম হওয়া প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম পূর্বকোণকে বলেন, বিগত অর্থবছর একটা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পড়ে সারা বিশ্বে। সৃষ্টি হয় বৈশ্বিক মন্দা। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। দেশে সৃষ্টি হয় চরম ডলার সংকট। ফলে সরকার থেকে বিলাসী পণ্য আমদানি থেকে শুরু করে অনেক ধরনের পণ্য আমদানিকে নিরুৎসাহিত করা হয়। যার ফলে কনটেইনারজাত পণ্য অনেক কম এসেছে। যার প্রভাব গিয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট হ্যান্ডলিংয়ে গিয়ে।

 

একই কারণ উল্লেখ করে বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আমরা প্রতিনিয়ত আগের তুলনায় বেশি পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের জন্য সব রকম প্রস্তুতি নিয়ে রাখি। আমাদের ইয়ার্ড বেড়েছে, ইক্যুইপমেন্ট বেড়েছে, এমনকি সম্প্রতি জেটিও বেড়েছে। তাই আমারা অতীতের সব পরিমানের বেশি পণ্য হ্যান্ডলিয়ে প্রস্তুত আছি। কিন্তু গত অর্থবছরের বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায়ীরা কম পণ্য আমদানি করেছে। আর বন্দর নিজে কোন জাহাজ বা পণ্য আমদানি করে না। ব্যবসায়ীরা যা পণ্য আমদানি করে ও রপ্তানি করে তাই হ্যান্ডলিং করে। গত অর্থবছরে সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা সুবিধা করতে পারেনি। যার নেতিবাচক প্রভাব বন্দরের হ্যান্ডলিং পরিসংখ্যানেও দেখা গেছে।

 

উল্লেখ্য, সমুদ্রপথে দেশের কনটেইনার পরিবহনের ৯৮ শতাংশ এই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয়। কনটেইনারবাহী জাহাজ ও খোলা পণ্যবাহী বাল্ক কার্গো এ দুই ধরনের জাহাজে করে আসা-যাওয়া পণ্য ওঠা-নামার ভিত্তিতে বন্দরের প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়। সিমেন্ট, ইস্পাতসহ খাদ্যশস্য ও সাধারণ পণ্য আমদানি হয় বাল্ক কার্গো বা খোলা পণ্যবাহী জাহাজে। অন্যদিকে শিল্প-কারখানার কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও বাণিজ্যিক পণ্য আমদানি হয় কনটেইনারে করে।

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট