চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪

রেকর্ড পরিমাণ ডিম মিলেছে হালদায়

মোহাম্মদ আলী

২০ জুন, ২০২৩ | ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ

এ বছর হালদায় ডিম ছাড়া নিয়ে আশা ও শঙ্কার দোলাচলের মধ্যে ছিলেন ডিম সংগ্রহকারীরা। ডিমের আশায় গত মাসাধিককাল ধরে আমাবস্যা ও পূর্ণিমায় দফায় দফায় হালদায় অবস্থান করেও ডিম না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন তারা। এ সময়ে কাক্সিক্ষত বৃষ্টি ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢল না নামায় ডিম ছাড়েনি রুই জাতীয় মাছ (রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ)। শুধু নমুনা ডিম ছাড়ে মা মাছ। এবার ডিম ছাড়ার মওসুমের শেষদিন ছিল রবিবার। কিন্তু এ সময়েও পর্যাপ্ত বৃষ্টি ছিল না। তবে আগের দিনের বৃষ্টির কারণে রবিবার হালদায় নামে পাহাড়ি ঢল। তাতে ডিম সংগ্রহকারীরা মধ্যরাতে ডিম ধরার উৎসবে মেতে উঠেন। হালদার দুই তীর রাউজান ও হাটহাজারীর মানুষের মধ্যে বয়ে যায় আনন্দ। অন্যান্য বছরের তুলনায় হালদায় রেকর্ড পরিমাণ বেশি ডিম পাওয়া গেছে। তাতে ঘুচে গেছে ডিমসংগ্রহকারীদের এক মাসের ক্লান্তি। এখন সবাই হ্যাচারি ও মাটির কুয়াতে ডিম থেকে রেণু ফোটাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

 

কয়েকজন ডিম সংগ্রহকারী জানায়, এবার তারা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ডিম পেয়েছেন। যা কয়েক বছরের মধ্যে রেকর্ড। বেশি ডিম পেয়ে খুশি সংগ্রহকারীরা। এমনকি অনেকে আগেভাগে চাহিদা অনুযায়ী ডিম পেয়ে চলে আসেন তীরে।

 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘এবার হালদায় রেকর্ড পরিমাণ ডিম ছেড়েছে রুই জাতীয় মাছ। তাতে খুশি ডিম সংগ্রহকারীরা। হালদাতে এবার প্রায় ৩০০ নৌকায় ৭০০ সংগ্রহকারী ডিম ধরে। ডিম পাওয়া গেছে ১৮ হাজার থেকে ২০ হাজার কেজি।’

 

ডিম আহরণে জড়িত হাটহাজারীর গড়দুয়ারা নতুনহাট এলাকার বাসিন্দা কামাল উদ্দিন সওদাগর দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘এবার ৫ নৌকায় আমি ২৫০ কেজি ডিম পেয়েছি। ডিমগুলো রেণু ফোটাতে আইডিএফ হ্যাচারিতে নিয়ে এসেছি। এখন রেণু ফোটানোর পুরোদমে কাজ চলছে।’

 

রাউজানের অংকুরীঘোনা গ্রামের বাসিন্দা উদয়ন বড়–য়া বলেন, ‘তিন নৌকায় এবার আমি ২৭০ কেজি ডিম পেয়েছি। যা বিগত কয়েক বছরের তুলনায় রেকর্ড। কাক্সিক্ষত ডিম পেয়ে আমাদের হতাশা কেটে গেছে। এখন এসব ডিম মাটির কুয়াতে রেণু ফোটানোর কাজ চলছে।’

 

হালদার পরিবেশ, মা মাছ রক্ষাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ত বেসরকারি সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ)। এ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় হালদায় এবার রেকর্ড পরিমাণ ডিম পাওয়া গেছে। হালদায় দীর্ঘদিন ধরে আইডিএফ নানা উন্নয়নমুখী কাজ করে যাচ্ছে। এমনকি মা মাছ রক্ষায় প্রশাসনকে লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে। তাই হালদাকে ঘিরে সরকারি যে কোন প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন বলে মনে করি। অন্যথায় হালদার জন্য তা আত্মঘাতী হতে পারে।’

 

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অফিসার ফারহানা লাভলী দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘হালদায় এবার প্রচুর ডিম পাওয়া গেছে। তাতে নদীর দুই তীরে উৎসবের আমেজ চলছে। হালদা থেকে আহরিত ডিম নদীর পাড়ে প্রতিষ্ঠিত রাউজান ও হাটহাজারীর ৪টি সরকারি হ্যাচারিতে রেণু ফোটানোর জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। এখন ডিম সংগ্রহকারীরা রেণু ফোটানো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।’

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট