চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ৩০ মে, ২০২৪

সর্বশেষ:

প্রতাপশালীদের বেড়ি পরাবে কে?

মোহাম্মদ আলী

২২ মে, ২০২৩ | ১১:০১ পূর্বাহ্ণ

কোনমতেই বেড়ি পরানো যাচ্ছে না ওয়াসার গুটিকয়েক অসৎ কর্মচারীকে। মানছেন না চাকরি-বিধি। প্রভাব খাটিয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রায় ১০ কোটি টাকার জমি দখল করে তারা অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করছেন। নির্মাণ বন্ধের জন্য ওয়াসা চার মাস আগে অফিস আদেশ জারি করলেও তোয়াক্কা করছেন না তারা। উল্টো দোর্দণ্ড প্রতাপে তারা দোকান নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, সিবিএ ও নন সিবিএ সংগঠনের বাইরে চট্টগ্রাম ওয়াসায় আরো একটি সংগঠন রয়েছে। এটির নাম ‘দি ওয়াসা এমপ্লয়িজ কো অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’ (রেজিস্টেশন নং-৩১৮)। আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে এ সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে ওয়াসার কর্মচারী রেজওয়ান হোসেন দুলাল ও মোহাম্মদ জাকারিয়া গত প্রায় ছয়মাস ধরে চান্দগাঁও থানাধীন খাজা রোডের খালাসি পুকুর পাড় এলাকায় ওয়াসার ১৬নং পাম্পহাউজের জায়গা দখল করে তৈরি করছে পাকা দোকান ঘর। ইতোমধ্যে সেখানে ৭টি দোকান ঘর তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এখন লাগানো হচ্ছে শাটার। এমন কি প্রতিটি দোকানের জন্য অগ্রিম সালামি হিসেবে চার লাখ টাকা করে আদায় করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিষয়টি অবগত হয়ে ওয়াসার এস্টেট অফিসার মো. বাবুল আলম গত ৭ ফেব্রুয়ারি রেজওয়ান হোসেন দুলাল এর নামে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে অনুমতি ব্যতিত কোন দোকান বা ঘর নির্মাণ না করার জন্য বলা হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে অফিস আদেশের এই চিঠির কোন ধরনের কর্ণপাত না করে তারা দোকান নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওয়াসার এস্টেট অফিসার মো. বাবুল আলম দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘চিঠি দেওয়ার পরও অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ওয়াসা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।’

ওয়াসার মড-৩ এর আওতাধীন চান্দগাঁওয়ের খাজারোড এলাকা। এ ব্যাপারে ওয়াসার মড-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী রানা চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদের জন্য সম্প্রতি ওয়াসার এস্টেট শাখাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ শাখা দোকানগুলো উচ্ছেদ করে যাবতীয় আইনগত ব্যবস্থা নিবে।’

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘দোকান তৈরির উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে অপরাধীদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এরপরও আইন অমান্য করে নির্মিত অবৈধ দোকানগুলো ভেঙ্গে ফেলা হবে। একইসাথে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে চাকরির বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

খাজা রোডে ওয়াসার ১৬ নং পাম্পহাউজে ভূমি প্রদানকারী আলী আহমদ এর নাতি স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আজিম দৈনিক পূর্বকোণকে অভিযোগ করে বলেন, ‘১৯৬৫ সালে আমার দাদা পাম্পহাউজ নির্মাণের জন্য ওয়াসাকে ২৪ শতক জমি দান করেন। কিন্তু বর্তমানে পাম্পহাউজের আড়ালে সেখানে পাকা দোকান তৈরি করা হচ্ছে। আমার দাদা জমি দান করেছিলেন ওয়াসার পাম্পহাউজ নির্মাণের জন্য, ওয়াসার কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর ব্যবসার জন্য নয়। তাই পাম্পহাইজের বাইরে অবশিষ্ট জমি ফেরত চেয়ে আদালতের দ্বারস্ত হবো।’

অভিযোগে জানা গেছে, ‘দি ওয়াসা এমপ্লয়িজ কো অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডে’র ব্যানারে ওয়াসার কর্মচারী মো. রেজওয়ান হোসেন দুলাল, মোহাম্মদ জাকারিয়া, মো. রুহুল আমিন, মোহাম্মদ এসকান্দর, জমির খান মিয়াজী, আব্দুল মোমিন সরকারসহ আরো বেশ কয়েকজন কর্মচারী ওয়াসার ১৬নং পাম্পহাউজ ছাড়াও নগরীর বায়েজিদ সড়কের নাছিরাবাদ এলাকার ওয়াসার স্টাফ কলোনির সামনে সম্প্রতিক সময়ে আরো চারটি দোকান তৈরি করে অগ্রিম সালামি নিয়ে ভাড়া দিয়েছেন। একই এলাকায় আরো ১৬টি দোকান নির্মাণ করে ভাড়া চলছে। ওয়াসার সিবিএ নেতা নুরুল ইসলাম এসব দোকানের দেখভাল করেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে ‘দি ওয়াসা এমপ্লয়িজ কো অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডে’র নেতৃত্বের মধ্যে ইতিপূর্বে দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘাতও হয়েছে।

পূর্বকোণ/এ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট