চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪

জুনেই যান চলাচলের উপযোগী হচ্ছে বাকলিয়া এক্সেস রোড

ইমরান বিন ছবুর

১৯ মে, ২০২৩ | ১১:২২ পূর্বাহ্ণ

দীর্ঘ জটিলতার পর আলোর মুখ দেখছে বাকলিয়া এক্সেস রোড। বিভিন্ন জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন আটকে থাকা এই সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হচ্ছে আগামী জুন মাসেই। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৯০ ভাগের বেশি নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক। নির্মাণ কাজ শতভাগ শেষ হওয়ার পর উদ্বোধনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যান চলাচলের জন্য সড়কটি উন্মুক্ত করে দেয়া হবে বলে জানায় বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এবং ঘনবসতিপূর্ণ বাকলিয়া এলাকার শাহ আমানত সংযোগ সড়কের পুরাতন বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে চন্দনপুরা পর্যন্ত ১ দশমিক ৫৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বাকলিয়া এক্সেস রোড নামের রাস্তা নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করে সিডিএ। ২০১৮ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া সড়কটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের জুনে। কিন্তু মামলা, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা এবং দশতলা ভবন নিয়ে জটিলতায় প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে শেষ হয়নি।

বাকলিয়া এক্সেস রোডের প্রকল্প পরিচালক কাজী কাদের নেওয়াজ বলেন, বেশ কয়েকটি জটিলতার কারণে যথাসময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। সব জটিলতা কাটিয়ে আগামী জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৯০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। সড়কের কিছু অংশের কার্পেটিং এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ বাকি আছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এসব কাজও শেষ হবে বলে আমরা আশা করছি।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, মামলা, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা এবং ডিসি রোডে মৌসুমী আবাসিক এলাকায় সড়কের মাঝে একটি দশতলা ভবন নিয়ে জটিলতায় দীর্ঘদিন প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি আটকে ছিল। প্রথমদিকে, ভবন ভেঙে প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও পরবর্তীতে ১০ তলা ভবন অক্ষত রেখে, ভবনের উত্তর পাশ দিয়ে সড়কটি নিয়ে যাওয়া গত বছরের এপ্রিলে এলাইনমেন্ট (নকশা) পরিবর্তনের বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের করা সুপারিশের অনুমোদন দিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

যানজট কমানোর পাশাপাশি দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাথে নগরীর যোগাযোগ সহজ করার ক্ষেত্রে মাস্টারপ্ল্যানে রাস্তাটি নির্মাণের প্রস্তাব ছিল। এছাড়া বহদ্দারহাট থেকে শাহ আমানত সেতু (কর্ণফুলী সেতু) পর্যন্ত ৬ লেনের সংযোগ সড়ক নির্মিত হলেও নগরীর বিস্তৃত এলাকার মানুষ এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল।

পুরাতন বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে চন্দনপুরা পর্যন্ত ১ দশমিক ৫৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বাকলিয়া এক্সেস রোডের নির্মাণ কাজ শেষ হলে বহদ্দারহাট কর্ণফুলী সংযোগ সড়কের সুফল পাবে বাকলিয়াসহ আশপাশের এলাকার মানুষ। এমন বিকল্প রোড নির্মাণ হলে নগরীর যানজট কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক দক্ষিণ) এন এম নাসির উদ্দিন বলেন, এই রোডের ফলে দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে আসা চকবাজারমুখী শিক্ষার্থী এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা রোগীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে গন্তব্যে যেতে পারবেন। চকবাজারগামী মানুষকে চাক্তাই কিংবা বহদ্দারহাট ঘুরে যাতায়াত করতে হবে না। একদিকে মানুষের সময় বাঁচবে, অন্যদিকে কমবে ভোগান্তি।

সিডিএ চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। পুরোপুরি কাজ শেষ না হলেও দীর্ঘদিন ধরেই এই সড়কটিতে যান চলাচল করছে। সড়কের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে উদ্বোধনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাকলিয়া এক্সেস রোডে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, নগরীর সিরাজ উদ দৌলা রোডে চন্দনপুরা মসজিদের বিপরীত পাশে আয়েশা খাতুন লেইন (প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান খান কায়সারের বাড়ির পাশ দিয়ে) দিয়ে আড়াআড়িভাবে রোডটি চাক্তাই খালের ওপর দিয়ে যাচ্ছে। মৌসুমী আবাসিক এলাকা, বগারবিল হয়ে সৈয়দ শাহ রোড অতিক্রম করে পুরাতন বাকলিয়া থানার পাশ দিয়ে শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়কের সঙ্গে মিলিত হচ্ছে।

পূর্বকোণ/এ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট