চট্টগ্রাম বুধবার, ২২ মে, ২০২৪

সর্বশেষ:

বন্ধের নির্দেশনা মানছে না অনেক কোচিং সেন্টার

ইমরান বিন ছবুর

১৬ মে, ২০২৩ | ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস রোধে চট্টগ্রামসহ দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। প্রায় এক মাস এসব কোচিং বন্ধ রাখতে বলা হলেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে খোলা রয়েছে নগরীর ‘কোচিং পাড়া খ্যাত’ চকবাজার ও জিইসি এলাকার অধিকাংশ কোচিং সেন্টার। কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় মালিকরা কোচিং সেন্টারগুলো খোলা রাখছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সরকারের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে যদি কোন কোচিং সেন্টার খোলা রাখার প্রমাণ পাওয়া যায় তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন করতে এবং ‘প্রশ্ন ফাঁসের অপচেষ্টা বা গুজব রুখতে’ ২৬ এপ্রিল থেকে ২৩ মে পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সরকারের এমন নির্দেশনার পরও কোচিং সেন্টারগুলো খোলা রাখছে কর্তৃপক্ষ।

নগরীর ‘কোচিং পাড়া খ্যাত’ চকবাজার ও জিইসি ঘুরে দেখা যায়, এসব জায়গায় একাডেমিক কোচিংগুলোতে ক্লাস চলছে আগের মতোই। এমনকি গোপনে কিছু কোচিং সেন্টার এসএসসি পরীক্ষার্থী ব্যাচের ক্লাসও চালু রেখেছে। অন্য ক্লাসের কোচিংয়ের আগে সকাল বেলা তাদের কোচিং হয়। এর পাশাপাশি খোলা রয়েছে চাকরির প্রস্তুতির কোচিং ও ভর্তি কোচিংও।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা যায়, নগরীর জিইসি’র ও আর নিজাম রোডের ৮৩ নম্বর বাড়িতে কমার্স পয়েন্ট, আর্টস পয়েন্ট ও সায়েন্স পয়েন্ট নামের তিনটি কোচিং সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার পর এসব কোচিং সেন্টার থেকে দলে দলে শিক্ষার্থীদের বের হতে দেখা যায়। এর বিপরীত পাশে ৮৫ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলায় সায়েন্স পয়েন্ট ও চতুর্থ তলায় বিটি কোচিং।

অন্যদিকে, চকবাজার কলেজ রোড এলাকার আইকন কাশেম টাওয়ারে বিভিন্ন বিষয় ভিত্তিক কোচিং সেন্টার ছাড়াও সাইন্স জোন, এইমারস কোচিং সেন্টার। গুলজার টাওয়ারের চতুর্থ তলায় রেটিনা, উদ্ভাস, উন্মেষ, উত্তরণ, অভিযাত্রীসহ বেশ কিছু কোচিং সেন্টারে ক্লাস চলমান এবং কিছু কোচিং সেন্টারের অফিস খোলা থাকতে দেখা যায়।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছরই এ ধরনের নির্দেশনা দেয়া হলেও তা বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয় না। যার কারণে কোচিং সেন্টারগুলো নির্দেশনা অমান্য করে নিয়মিত তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে। ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুযোগ থেকেই যাচ্ছে। এসব কোচিংয়ে দেশের বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষকরা ক্লাস নেন। তারা কখনো কখনো কোচিংয়ের সুনাম ধরে রাখতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে যুক্ত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

জানতে চাইলে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হাসিনা জাকারিয়া বলেন, প্রশ্ন ফাঁস বন্ধে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে তা নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। এবং এটির সুফলও এখন জনগণ পাচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি পরীক্ষার সময় কোচিং সেন্টারগুলো খোলা রাখতে দেখা যাচ্ছে। সরকার শুধুমাত্র নির্দেশনা দিয়েই বসে আছে, তা বাস্তবায়নে কোন পদক্ষেপ নেই। পরীক্ষার সময় কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখতে যে যে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন সরকারকে সেসব পদক্ষেপ নিতে হবে।

এদিকে কোচিং সেন্টারের মালিকরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন কোচিং বন্ধ থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। এখন নিয়মিত কোচিংয়ের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা। সম্প্রতি পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এক মাসের বেশি সময় কোচিং বন্ধ ছিল। এরপরই শুরু হয়েছে এসএসসি পরীক্ষা। সে কারণে আরও এক মাস বন্ধ থাকবে স্কুলগুলো। কোচিং বন্ধ থাকলে তারা খরচ জোগাতে হিমশিম খাবেন। কোচিং রুমের ভাড়া, কর্মচারী ও শিক্ষকদের বেতন ঠিক সময়ে যেন দিতে পারেন, সে জন্য তারা কোচিং খোলা রেখেছেন।

কোচিং সেন্টার খোলা রাখার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কোচিং সেন্টারের স্বত্বাধিকারী বলেন, রমজানের সময়ও কোচিং সেন্টার সেভাবে চলেনি। এখন যদি আবার এক মাস বন্ধ রাখি, তাহলে আমরা কিভাবে চলবো? এখন মাসের ১১ তারিখ হয়ে গেছে। কোচিং এর ভাড়া দেয়ার সময় হয়েছে, আমরা যদি কোচিং বন্ধ রাখি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোন অর্থ না পাই তাহলে কিভাবে কোচিংয়ের ভাড়া দিব?

তারা আরো বলেন, আমরা কোচিং সেন্টারের মালিকরা তো প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত না। তাহলে কোচিং বন্ধ রেখে কেন ক্ষতির সম্মুখীন হবো? এছাড়া, এমনিতে শিক্ষার্থীরা বাসায় পড়াশুনা করে না। এর বাইরে যদি পুরো একটি মাস শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা না করে তাহলে তো সিলেবাস শেষ করতে পারবে না।

এদিকে, চকবাজার এলাকায় কোচিং সেন্টার খোলা রয়েছে কিনা সে ব্যাপারে তদারকি করতে গত বৃহস্পতিবার বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে যান চকবাজার থানা পুলিশ।

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের বলেন, এসএসসি পরীক্ষার সময় কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশনা রয়েছে সরকারের। এরপরও কোন কোন কোচিং সেন্টার খোলা রয়েছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা চকবাজার এলাকার কোচিং সেন্টারগুলো পরিদর্শন করি। যেসব কোচিং সেন্টার বা কোচিং সেন্টারের অফিস খোলা ছিল সেসব বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়। এছাড়া, সরকারি নির্দেশনা পর্যন্ত যাতে কোন কোচিং সেন্টার খোলা না হয় সে ব্যাপারে কোচিং মালিকদের সচেতন করা হয়।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, সরকারের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কোচিং সেন্টার চালু রাখার সুযোগ নেই। কোথাও কোন কোচিং সেন্টার খোলা রাখার প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পূর্বকোণ/এ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট