চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪

এমএলএম ব্যবসার ফাঁদ পুলিশ, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ মে, ২০২৩ | ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ

পুলিশ, প্রকৌশলী আর চিকিৎসক মিলে ফাঁদ পেতেছে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ব্যবসার। ইতিমধ্যে তারা হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। তবে কি পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান জানতে পারেনি পুলিশ। পিএলসিইউএক্স ডটকম নামে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার ফাঁদটি নিয়ন্ত্রণ করতেন রাঙামাটি কাউখালীর নারায়ণ চন্দ্র দাসের ছেলে পুলিশ কনস্টেবল মনোতোষ চন্দ্র দাস (৪২), একই এলাকার মৃত নিতাই নন্দ বৈদ্যের ছেলে ডা. নারায়ণ বৈদ্য (৪৭) ও নগরীর হিলভিউ আবাসিক এলাকার প্রকৌশলী বিধান কুমার বড়ুয়া (৫৮)। তিনজনকে রবিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে খুলশী থানা পুলিশ। মনোতোষ খুলশী থানার পাহাড়তলী পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিল। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, অনলাইনভিত্তিক এমএলএম ব্যবসার ফাঁদে তারা ইতিমধ্যে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এমএলএমের ফাঁদে তারা কি পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, এসব টাকা কোন কোন দেশে পাচার করেছে, এ চক্রের সাথে আরো কারা জড়িত এসব বিষয় জানতে গ্রেপ্তার তিনজনকে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে গতকাল সোমবার আদালতে পাঠিয়েছে খুলশী থানা পুলিশ।

জানা যায়, দক্ষিণ খুলশীর উজ্জ্বল দাশ গুপ্ত (৪৯) নামে এক ব্যক্তি গত রবিবার খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। উজ্জ্বল বলেন, চারমাস আগে কনস্টেবল মনোতোষের সাথে তার পরিচয় হয়। মনোতোষ তাঁকে জানায়-পিএলসিইউএক্স ডটকম নামে তার একটি অনলাইন এমএলএম ব্যবসা রয়েছে। তিনি পারপেল ডায়মন্ড গ্রাহক হিসাবে যুক্ত আছেন। অনলাইনভিত্তিক ওই এমএলএম ব্যবসায় প্রায় আট হাজার গ্রাহক রয়েছে। এরমধ্যে ২০০ সরকারি অফিসার, ১৫০ জন সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রয়েছেন। এরমধ্যে ডা. নারায়ণ ও প্রকৌশলী বিধানের সাথে তার পরিচয় হয়।

উজ্জ্বল বলেন, মনোতোষ মুঠোফোনে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি কর্মকর্তাদের তার লেখা বই প্রদান, রেডিসন ব্লুসহ নানা দামী হোটেলে এমএলএম ব্যবসায় যারা বিনিয়োগ করেছে তাদের নিয়ে সেমিনার, ইফতার পার্টি ও মতবিনিয়ম সভা করেছে এমন ছবিও দেখায়।

পিএলসিইউএক্স’এ ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতিমাসে ছয় লাখ চার হাজার টাকা লাভ পাবে। চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে তিন দফায় মনোতোষের হাতে উক্ত টাকা দেন। পরবর্তীতে তিনি কোন লভ্যাংশ পাননি। গত ৩০ এপ্রিল মনোতোষের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তিনি ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেয়ার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। উজ্জ্বল পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন কনস্টেবল মনোতোষ এমএলএম ব্যবসার নামে একটি চক্র গড়ে তুলেছেন। তারা ইতিমধ্যে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।

খুলশী থানার পরিদর্শক (ওসি) সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, রবিবার রাতে উজ্জ্বল দাশ গুপ্তের মামলা দায়েরের পর পরই বায়েজিদ এবং হিলভিউ আবাসিক এলাকা থেকে কনস্টেবল মনোতোষ চন্দ্র দাস, ডা. নারায়ণ বৈদ্য ও প্রকৌশলী বিধান কুমার বড়–য়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কি পরিমাণ টাকা তারা হাতিয়েছে, কিংবা এতে আরো কেউ জড়িত রয়েছে কিনা ইত্যাদি বিষয় জানতে তিনজনকে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পূর্বকোণ/এ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট