চট্টগ্রাম সোমবার, ২০ মে, ২০২৪

সর্বশেষ:

বিএফআরআই’য়ে অনিয়ম

অর্থ আত্মসাৎ ধামাচাপা দিতে ৯১টি ফাইল চুরি

ইফতেখারুল ইসলাম

১০ মে, ২০২৩ | ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ

কাজ না করে প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ টাকা তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) একটি চক্র। অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ৯১টি ফাইল বস্তায় ভরে নিয়ে গেছেন সংস্থাটির এক কর্মচারী। এই ঘটনায় বিএফআরআই চট্টগ্রামের কর্মকর্তা মীর মো. তৈয়ব পাঁচলাইশ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়- বিএফআরআই এর নির্বাহী শাখার যে ৯১টি মঞ্জুরিপত্র (ফাইল) চুরি হয়েছে, মঞ্জুরিপত্র রেজিস্টার অনুযায়ী সেগুলোর মাধ্যমে ব্যয়িত অর্থের পরিমাণ ১৫ লাখ ৪২ হাজার ১৮৩ টাকা। এসব মঞ্জুরিপত্রসহ বিল ভাউচার হারানো বা চুরি যাওয়ায় কাজগুলো সম্পাদিত হয়েছে কিনা যাচাই করতে পারেনি তদন্ত কমিটি। কাজগুলো আদৌ হয়েছে কিনা সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে বলে তদন্ত কমিটি মনে করে।

বিএফআরআই কর্মকর্তা মীর মো. তৈয়ব অভিযোগে বলেন, বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সুজন চন্দ্র সরকার ২০২২ সালের ৮ আগস্ট ও ১৪ আগস্ট পত্র মারফত পরিচালক বিএফআরআই লিখিতভাবে জানান, ‘বিএফআরআই এর ক্যাশ শাখার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। তিনি ২০২২ সালের ২৩ জানুয়ারী খুলনায় বদলি হন। যাওয়ার সময় অফিসের চাবি হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে না দিয়ে তার সঙ্গে নিয়ে যান।’ ২০২২ সালের ২৪ জানুয়ারি হতে প্রশাসন বিভাগের হিসাব ও বাজেট শাখার সহকারী হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে মীর মো. তৈয়ব কর্মরত আছেন।

থানায় অভিযোগে বলা হয়, ২০২১-২২ অর্থবছর সমাপ্ত হওয়ায় গত অর্থবছরের অডিট উপস্থাপনের জন্য পূর্তকাজের মঞ্জুরিপত্র, বিল ভাউচার, রেজিস্টার এবং অন্যান্য কাগজপত্রাদি যাচাই-বাছাই ও সংরক্ষণ করার প্রয়োজন হলে পূর্তকাজের সরেজমিন তদন্ত কমিটির নিকট সরবরাহের জন্য প্রধান সহকারী হিসেবে ও বাজেট শাখার চাহিত কাগজপত্রাদি সরবরাহকালে দেখা যায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল ভাউচার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ২০২২ সালের ৭ আগস্ট ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও পর্যালোচনা করে দেখা যায় ওইদিন সকাল ১১টার দিকে বিএফআরআই এর দ্বিতীয় তলার ক্যাশ শাখার অফিস রুমে চাবি সহকারে ভিতরে প্রবেশ করে নিজ হাতে আলমিরা খুলে কাগজপত্রাদি বস্তাভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছেন শহীদুল ইসলাম। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। জানতে চাইলে সহকারী হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে মীর মো. তৈয়ব পূর্বকোণকে বলেন, তিনি মূলত বিভাগীয় পরিচালকের (প্রশাসন) পক্ষে মামলাটি করেছেন।

ফাইল খুঁজে না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সংস্থাটির নির্বাহী কর্মকর্তা নাদিম সরওয়ার পূর্বকোণকে বলেন, ফাইল থাকে হিসাব শাখায়। ফাইল সংরক্ষণের দায়িত্ব হিসাব শাখার। ফাইল চুরি বা হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগীয় কর্মকর্তা (প্রশাসন) ড. মাহবুবুর রহমান পূর্বকোণকে বলেন, থানার মামলাটি দুদক পর্যন্ত গড়িয়েছে। যেহেতু বিষয়টি ইন্টারনাল অফিসিয়াল ব্যাপার, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অফিসিয়াল ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দুদক থেকে সুপারিশ করা হয়েছে। দুদকের মতামতের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়ার কার্যক্রম চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

 

পূর্বকোণ/এ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট