চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০২৪

সর্বশেষ:

সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক

৯ মে, ২০২৩ | ১২:১৬ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামসহ সারাদেশে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে অনাকাক্সিক্ষত বিস্ফোরণ ও অগ্নিদুর্ঘটনা। আগুনে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে অনেক মানুষ। আগুনে পুড়ে নষ্ট হচ্ছে শত শত কোটি টাকার সম্পদ। আগুনের এই ভয়াবহতা সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষই অসচেতন। আমাদের সবাইকে এখন থেকেই সচেতন হতে হবে। অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অগ্নিদুর্ঘটনা কমাতে এবং ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রতিটি ভবনে পর্যাপ্ত জরুরি গমনপথ, অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্র মজুত রাখতে হবে। অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়ে বিদ্যমান আইনের দৃঢ় প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং কেউ অমান্য করলে তাকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। বিদ্যালয়গুলোতে অগ্নি নিরাপত্তাবিষয়ক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আধুনিক ফায়ার ইঞ্জিন, ওয়াটার হাইড্রেন্ট এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকতে হবে। অগ্নি নির্বাপণের অন্যতম অনুষঙ্গ পানি। এ পানির অন্যতম উৎস পুকুর বা জলাশয়গুলো রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। সর্বোপরি অগ্নি দুর্ঘটনা রোধে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় বৃদ্ধি করতে হবে।

পূর্বকোণ সেন্টারের ইউসুফ চৌধুরী কনফারেন্স হলে গতকাল সোমবার ‘চট্টগ্রামের অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ প্রতিরোধে কারণীয়’-শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম আরবান নেটওয়ার্ক ও দৈনিক পূর্বকোণের আয়োজনে সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইপসার সহযোগিতায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ নগরী হিসেবে আমরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছি, নিরাপত্তার ব্যাপারে সেভাবে কোন অগ্রগামিতা নেই। নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট কোন পরিকল্পনা নেই। বঙ্গবাজারের অগ্নিকাণ্ডে শতশত ব্যবসায়ী পথে বসেছে। কোটি কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। এটা অবশ্যই আমাদের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। বেশির ভাগ অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটছে শর্টসার্কিটের কারণে। আমাদের দেশের বেশির ভাগ দালান-কোঠা, কলকারখানায় সঠিক নিয়ম না মেনে বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের ফলে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হচ্ছে। ফুটপাতে ব্যবহার হচ্ছে বৈদ্যুতিক বাতি। এসব বৈদ্যুতিক লাইন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে পুড়ে যাচ্ছে বিভিন্ন মার্কেট। এসব অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করলে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ অগ্নিকাণ্ড কমে যাবে। এছাড়া চট্টগ্রামে প্রতিদিনই গড়ে উঠছে শিল্প-কারখানা। কিন্তু এসব কারখানার জন্য যেসব গুদাম তৈরি হচ্ছে তার বেশিরভাগ আবাসিক এলাকায়। এর মধ্যে বিভিন্ন স্থানে রাসায়নিক গুদামও রয়েছে। এসব গুদামে আগুন লেগে লোকালয় ধ্বংস হচ্ছে। ব্যাপক প্রাণহানি হচ্ছে। আমাদেরকে এসব রাসায়নিক গুদামের জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। প্রতিদিন নতুন নতুন মার্কেট নির্মিত হচ্ছে। কিন্তু এসব মার্কেটে অগ্নি নির্বাপণের কোন ব্যবস্থা নাই। দুর্যোগকালীন সময়ের জন্য পানি রিজার্ভারের কোন ব্যবস্থা নেই। বিভিন্ন ভবনে অগ্নি নির্বাপণের সরঞ্জাম থাকলেও সেগুলোর ব্যবহার অনেকেই জানেন না। এছাড়া বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেতে শর্ত দিতে হবে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছাড়া যাতে ভবন অনুমোদন দেয়া না হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাসুদ রানার সঞ্চালনায় সংলাপের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ইপসা পরিচালক নাছিম বানু শ্যামলী এবং মূল ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন চুয়েট-এর নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান। অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাকিব হাসান, চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, পিডিবি দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহা-ব্যবস্থাপক আমিনুর রহমান, ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল হালিম, পদ্মা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপক সালেকি আহমেদ আইনুল আক্কাসি, যমুনা অয়েল কোম্পানির সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আহমেদ গণি, সিডিএ’র উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ আবু ঈসা আনসারী, বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ, চট্টগ্রাম কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক মো. টিপু সুলতান, বিএম কন্টেইনার ডিপো’র নির্বাহী পরিচালক ক্যাপ্টেন মাঈনুল আহসান, চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের বিশেষ প্রতিনিধি ফখরুল ইসলাম, দৈনিক পূর্বকোণের নিজস্ব সংবাদদাতা সৌমিত্র চক্রবর্তী ও বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোর্ট এসোসিয়েশনের সচিব রুহুল আমিন সিকদার বিপ্লব। অনুষ্ঠানে ইপসার প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমানের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাছিম বানু শ্যামলী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইউএনডিপি’র টাউন ম্যানেজার মো. সারওয়ার হোসাইন খান।

পূর্বকোণ/এ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট