চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০২৪

দেড় বছরে শতাধিক মোটরসাইকেল চুরি, পুলিশ পেয়েছে মাত্র দুটি

নাজিম মুহাম্মদ

৫ মে, ২০২৩ | ২:৫৪ অপরাহ্ণ

দেড় বছরে শতাধিক মোটরসাইকেল চুরি করেছে সাব্বির হোসেন সৈকত। এরমধ্যে পুলিশ উদ্ধার করতে পেরেছে মাত্র দুটি। সাব্বিরের বয়স এখন ২৩ বছর। বিয়ে করেছেন এক বছর আগে। চুরির ফাঁকে স্ত্রীকে নিয়ে টিকটক ভিডিও করতে পছন্দ করেন। ১৭ বছর বয়সে মুদির দোকান চুরির মাধ্যমে তার চুরির হাতেখড়ি। নোয়াখালির সোনাপুর চর উরিয়া গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে সাব্বির এরমধ্যে কারাভোগ করেছে ছয়বার। কিন্তু সংশোধন হয়নি। জামিনে বের হয়ে ফের জড়িয়ে পড়ে মোটরসাইকেল চুরিতে। অনুসারীদের নিয়ে ঘুরে বেড়ায় ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও নগরীর বিভিন্ন এলাকায়। চলার পথে মোটরসাইকেল দেখলেই সুযোগ বুঝে নিয়ে সটকে পড়ে। সম্প্রতি নগরীর আকবরশাহ থানার নিউ মনছুরাবাদ এলাকার একটি মোটরসাইকেল চুরি ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে সাব্বির।
আকবরশাহ থানার পরিদর্শক (ওসি) ওয়ালি উদ্দিন আকবর জানান, গত ৩১ মার্চ শুক্রবার সকাল এগারেটায় নিউ মনছুরাবাদ পিরানে পীর দস্তগীর মার্কেট এর নীচ তলায় মোটরসাইকেল রেখে অফিসে যান শওকত হোসেন। জুমার নামাজ শেষে এসে দেখেন মোটর সাইকেলটি নেই। পরে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় দেখা যায় বেলা পৌনে দুইটার সময় এক যুবক মোটরসাইকেলটি নিয়ে গেছে। তদন্তে নেমে জানতে পারি সাব্বির হোসেন সৈকত মোটরসাইকেলটি নিয়ে গেছে। সাব্বির আকবরশাহ হারবাতলি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকে। ওসি বলেন, মোটরসাইকেলটি চুরির পর আত্নগোপন করে সাব্বির। সম্প্রতি একটি চুরির ঘটনায় সীতাকুণ্ডে ধরা পড়ে সাব্বির। শওকতের দায়ের করা মোটরসাইকেল চুরির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বির জানান, লেখাপড়া করেছে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত। বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে ২০১৭ সালে লক্ষীপুরে একটি মুদির দোকনে চুরি করে। মহিউদ্দিন নামে এক যুবক তাদের দল নেতা। পরবর্তীতে কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালিতে একাধিক দোকানে তালা কেটে চুরি করে তারা। তাদের গ্রুপের সদস্যরা হলো, সাগর, রাজু, সেলিম, সোহাগ, রাজিব। তারা মাইক্রোবাস নিয়ে বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে দোকানের তালা কেটে চুরি করে। নগদ টাকার পাশাপাশি মালামালও চুরি করে। চুরি করা মালামাল অর্ধেক মূল্যে কিনে নেয়। মালামাল বিক্রির টাকা সদস্যরা সমান ভাগে ভাগ করে নেয়।
দেড় বছরে শতাধিক মোটর সাইকেল চুরি : সাব্বির জানায়, তার বাবার একটি পালসার মোটরসাইকেল ছিল। মোটর সাইকেলটি বিক্রি করে দেয়া হয়েছিল। ওই মোটর সাইকেলের একটি চাবি ছিল। দেড় বছর আগে ফেনী ওভার ব্রিজের নীচে একদিন একটি মাহিন্দ্রা মোটরসাইকেল ওই চাবি দিয়ে স্টার্ট দিয়ে নিয়ে যায়। সেই থেকে একের পর মোটরসাইকেল চুরি করে। বাদ দেয়নি দোকান চুরি। এরমধ্যে আটমাস আগে নোয়াখালীর চৌমুহনীতে একটি দুধের দোকানে তালা কেটে চুরি করে। চুরি করা দুধ বিক্রি করে তারা দেড় লাখ টাকা পেয়েছিল।
সাব্বির বলেন, ব্যবহার করতে করতে মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন সুইচের চাবির ঘাট ফ্রি হয়ে যায়। আর ফ্রি হয়ে যাওয়া ইঞ্জিন সুইচের ঘাটে যে কোন চাবি ঢুকানো যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে যেকোন চাবি দিয়ে এসব মোটর সাইকেলের ইঞ্জিন সুইচ অন করা যায়।
১৭ বছর বয়সে ২০১৭ সালে আকবরশাহ থানার একটি ছিনতাই মামলায় আসামি হয়ে প্রথম কারাভোগ করে। চারমাস পর জামিনে এসে ফের চুরিতে জড়িয়ে পড়ে। এরমধ্যে ছয়বার গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বির জানায়, গত দেড় বছরে অন্তত শতাধিক মোটর সাইকেল চুরি করেছে। এরমধ্যে সম্প্রতি আকবরশাহ থানা পুলিশ দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে। নোয়াখালীর চরাঞ্চলে মোটরসাইকেলে যাত্রী বহন কর হয়। সেখানে চোরাই মোটরসাইকেলের চাহিদা রয়েছে। কাগজপত্র না থাকায় প্রতিটি চোরাই মোটরসাইকেল ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা বিক্রি করা যায় সেখানে।

 

পূর্বকোণ/এ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট