চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০২৪

পাল্টে যাচ্ছে চট্টগ্রামের আউটার স্টেডিয়াম

ক্রীড়া প্রতিবেদক

৬ মে, ২০২৩ | ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

নগরবাসীর দীর্ঘদিনের চাওয়া পূরণ হতে চলেছে। বিভিন্ন মেলাসহ দখল-বেদখলে জর্জরিত নগরীর ক্রীড়াঙ্গণের ফুসফুস খ্যাত আউটার স্টেডিয়ামে চারদিকে বেষ্টনী (ফেন্সিং) দেওয়ার কাজ গত বুধবার সকাল থেকে শুরু করেছে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা (সিজেকেএস)।

ট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় এই বেষ্টনী দেওয়ার কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করে মাঠের আধুনিকায়নে ঝাঁপিয়ে পড়বে সিজেকেএস। ক’মাস আগেই জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাঠকে দখলমুক্ত করা হয়। যদিও সরেজমিনে গত বুধবারও দেখা গেছে স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ। এরমধ্যেই জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান ও সিজেকেএস সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন কোদাল দিয়ে মাটিতে কোপ দিয়ে গত বুধবার সকাল ১১টায় বেষ্টনী দেওয়ার কাজের উদ্বোধন করেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক ও সিজেকেএস সভাপতি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে আউটার স্টেডিয়ামের পরিকল্পিত নকশা হাতে পেয়েছি। আজ (গত বুধবার) থেকে মাঠের আধুনিকায়নের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হলো। আমাদের পরিকল্পনা হলো, আউটার স্টেডিয়াম শুধুমাত্র খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আমরা সীমানা প্রাচীরের কাজ শুরু করলাম। দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ করার চেষ্টা থাকবে। মাঠটি সবুজ ঘাস দিয়ে সাজানো হবে। আশা করছি আগামী দু’মাসের মধ্যে এখানে সুন্দর একটি মাঠ হবে। প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলা ছাড়াও শিশু-কিশোররা এই মাঠে নিয়মিত অনুশীলন করতে পারবে। এটা ছাড়াও মাঠটি এমনভাবে সাজানো হবে যাতে করে যে কেউ মাঠে এসে সময় কাটানো, হাঁটাহাঁটি করা ছাড়াও নির্মল সময় উপভোগ করতে পারেন।

বেষ্টনী কাজের উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ ছাড়াও কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠানের স্থপতি আশিক ইমরান, সিজেকেএস যুগ্ম-সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন মো. জাহাঙ্গীর, নির্বাহী সদস্য অহিদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন, জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার ফজলে বারী খান রুবেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সিজেকেএস সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, খেলার জন্য একটি আধুনিক মাঠ হিসাবে উপস্থাপন করা হবে আউটার স্টেডিয়ামকে। চলমান সার্বিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের উপর খেলাধুলার ক্রমবর্ধমান চাপ কিছুটা কমবে। তাছাড়া শিশু-কিশোররা এই মাঠ থেকে নিজেদের ক্রীড়া প্রতিভার পরিচর্যার সুযোগ পাবে। ঘরোয়া ফুটবল ও ক্রিকেটে দ্বিতীয়-তৃতীয় বিভাগের ম্যাচগুলো আউটার স্টেডিয়ামে চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া হ্যান্ডবল, ভলিবলসহ আরও কয়েকটি ইভেন্ট এই মাঠে করার পরিকল্পনা রয়েছে।  প্রাথমিকভাবে এই পরিকল্পনাগুলো সংশ্লিষ্ট সবার সাথে আলোচনা করে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে।

মাঠটি হবে সাধারণ মানুষের। আধুনিকায়নে মাঠটির চারপাশে মিনি গ্যালারিসহ ওয়াকওয়ে থাকবে। আউটার স্টেডিয়ামের সীমানার আয়তন প্রসঙ্গে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আমরাও জানতাম না আমাদের সীমানা কতদূর। মাঠটা নিয়ে আগে সিজেকেএস কথা বলেনি। জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় প্রথমবার মাঠটি পরিমাপ করা হয়েছে। সে হিসাবে ঠিক যতটুকু জায়গা আউটার স্টেডিয়াম পরিমাপের ভেতর, ঠিক ততটুকু অংশেই কাজ করা হচ্ছে। চলমান কর্মপ্রবাহ সাফল্য পেলে আউটার স্টেডিয়ামের দৃশ্যপটই পাল্টে যাবে। জানা গেছে, এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাউট অংশজুড়ে গ্যালারি করা হবে। বিভিন্ন আকৃতির বসার জায়গা থাকতে পারে সার্কিট হাউজের সামনের অংশ ও সুইমিং কমপ্লেক্স অংশজুড়ে।

এছাড়া ক্রিকেটের অনুশীলনের জন্য বিশেষায়িত চারটি নেট, সেন্টার উইকেট, ফুটবল অনুশীলনের জন্য আধুনিক সুবিধাসহ ড্রেসিংরুম থাকবে। থাকবে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থাও।

 

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট