চট্টগ্রাম বুধবার, ২৯ মার্চ, ২০২৩

সর্বশেষ:

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ৩:৩৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভালোবাসা দিবসের দিন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে, বাক-বিতণ্ডা থেকে তরুণীকে হত্যা

ভালোবাসা দিবসের দিন জেসমিন আক্তার (২৭) নামে এক তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে কক্সবাজারের বাজারঘাটা এলাকায় সি বার্ড হোটেলে উঠেন মোস্তাফিজুর রহমান। হোটেলে তাদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষোভ থেকে ওই নারীকে হত্যা করে পালিয়ে যান মোস্তাফিজুর রহমান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবের কাছে এসব তথ্য জানান তিনি।

শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় নগরীর চান্দগাঁও ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহবুব আলম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় কক্সবাজার পৌর সদরের বাজারঘাটা এলাকার সী-বার্ড হোটেল থেকে জেসমিন আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর সিআইডির একটি টিম ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেন। এ ঘটনায় র‌্যাব-৭, র‌্যাব-১৫ ও র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা একযোগে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে গতকাল শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় হাটহাহাজারী থানাধীন চৌধুরীরহাট এলাকা থেকে আসামি মোস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে আগ্রা ১০০ নামক সিলডেনাফিল গোত্রের যৌন উত্তেজক ওষুধ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও তার চোখের নীচে, ঘাড়ে ও কানের পিছনে নখের আচড় পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার মোস্তাফিজুর রহমান বাগেরহাট জেলার সদর থানার আতাইকাঠি এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে।

র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক আরও বলেন, হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে ১৪ ফেব্রুয়ারি হোটেলে ওই নারী প্রবেশের সময় পরনের কাপড়ের সাথে নিহত হওয়ার পর পরনের কাপড়ের মিল পাওয়া যায়। এছাড়াও সিসিটিভির ক্যামেরায় মোস্তাফিজুর রহমানের চেহারাও স্পষ্ট দেখা গেছে।

তিনি আরও বলেন, নিহত নারীর ফিঙ্গারপ্রিন্টে তার পরিচয় সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায় নি। এছাড়া কেউ তার অভিভাবকত্ব দাবি না করায় তার সম্পর্কে বেশি কিছু জানাও সম্ভব হয় নি। এখনো ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রস্তুত না হওয়ার কারণে তার মৃত্যুর সঠিক কারণও উদঘাটন করা সম্ভব হয় নি। তবে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যে এটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তবে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন ও মৃত্যুর পর তার শারীরিক লক্ষণসমূহ বিবেচনা করলে তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে হিসেবে অনুমান করা যায়। নিহত নারীর অভিভাবকত্ব কেউ দাবি না করায় আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে অজ্ঞাতনামা হিসেবে দাফন করা হয়।

লে. কর্নেল মো. মাহবুব আলম বলেন, গ্রেপ্তার মোস্তাফিজুর রহমান এর আগে পাঁচ বার গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও কক্সবাজার জেলায় ৪টি মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়াও ২০১৮ সালের ২৩ জুন ঢাকার দক্ষিণখান থানায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা সংক্রান্ত একটি মামলা হয় এবং ওই মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তার আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

পূর্বকোণ/পিআর/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট