চট্টগ্রাম শনিবার, ২৫ মে, ২০২৪

সর্বশেষ:

এই ভালোবাসা অন্যরকম

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ২:০৪ অপরাহ্ণ

ঋণের ১৬ হাজার টাকা নিয়ে ক্যামোথেরাপি দিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছিলেন রাঙ্গুনিয়ার কৃষক ফরিদ আহমদ। হঠাৎ তিনি বুঝতে পারেন-পকেটে টাকা নেই। আসার পথেই চুরি হয়ে গেছে। ৭০ বছর বয়সী জীর্ণ-শীর্ণ শরীরের ফরিদ যখন ছলছল চোখে চিকিৎসা ছাড়াই বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন- তখনই ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিয়ে তার পাশে দাঁড়ায় রোগী কল্যাণ সমিতি। ১৪ হাজার ৫০০ টাকায় তাকে কিনে দেওয়া হয় সব ওষুধ। হাসিমুখেই বাড়ি ফিরেন ফরিদ।

 

কিডনি রোগে আক্রান্ত প্রবাসী ইলিয়াস দেশে ফিরেন তিন বছর আগে। ডায়ালাইসিস, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয় মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন তিনি। ফটিকছড়ির এই যুবক এখন বিনামূল্যেই ডায়ালাইসিস করাতে পারছেন। তাকে এই সুযোগ করে দিয়েছে রোগী কল্যাণ সমিতি। শুধু বৃদ্ধ বা যুবক নয়- পরিত্যক্ত শিশুদেরও ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখছে এই সমিতি। সম্প্রতি জামালখান থেকে কুড়িয়ে পাওয়া শিশুকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে শিশু নিবাসের বেবি হোমে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে তারা।

 

ফরিদ, ইলিয়াস বা জামালখান থেকে উদ্ধার করা শিশুর মতো ৩ লাখ ১৭ হাজার রোগীর জন্য প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে রোগী কল্যাণ সমিতি। এর মধ্যে গত ১ বছরেই প্রায় ৫২ হাজার রোগীকে সহায়তা দিয়েছে এই সমিতি। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া রোগীদের প্রতি অন্যরকম এই ভালোবাসা বিলাতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন নগরীর শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি থেকে চা দোকানি সবাই। প্রতি বছর বছর মিলছে নির্দিষ্ট অঙ্কের সরকারি সহায়তাও।

 

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন- চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অসচ্ছল রোগীদের হাসপাতাল বিল, ওষুধ, ডায়ালাইসিস ফি, টেস্ট ফি, ক্যামোথেরাপির ওষুধ, কৃত্রিম অঙ্গ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনে দেওয়ার পাশাপাশি কাউন্সিলিংও করান রোগী কল্যাণ সমিতির কর্মকর্তারা। এছাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সিসিইউ, এইচডিইউ স্থাপন করা হয়েছে সমিতির অর্থায়নে। এই কাজে বছরে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২ কোটি টাকা। এরমধ্যে ২০ লাখ সরকার এবং বাকি টাকা বেসরকারি অনুদান থেকে মিলে।

 

চমেক হাসপাতাল রোগী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ সাহা পূর্বকোণকে বলেন, টাকার জন্য কোনো রোগীর চিকিৎসা সেবা যেন বন্ধ হয়ে না যায়- সেই লক্ষ্যেই ১৯৬২ সালে রোগী কল্যাণ সমিতি গঠন করা হয়। এখন হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ের সহায়তায় এই সমিতি চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া রোগীদের জন্য কাজ করছে। সরকারের পাশাপাশি অনেক মানবপ্রেমী মানুষ এই কাজে সমিতিকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন।

 

তিনি বলেন, শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি থেকে চা বিক্রেতা, মন্ত্রী থেকে সাধারণ মানুষ- যে যার সাধ্য মতো রোগী কল্যাণ সমিতির ফান্ডে টাকা, ওষুধ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়ক যন্ত্রপাতি দান করেন। দান করা এমন ব্যক্তির সংখ্যা বছরে অন্তত ৪০০-৪৫০ জন। রোগীদের ভালো রাখতে রোগী কল্যাণ সমিতির সব কাজের কৃতিত্বের দাবিদার তারাই। গরিব রোগীদের জন্য ভালোবাসা মাখা তাদের এই নিঃস্বার্থ দানের কারণেই আমরা সমিতির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারছি।

 

 

পূর্বকোণ/জেইউ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট