চট্টগ্রাম রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪

সেই গীতা বিশ্বাসের পাশে জেলা প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ৭:৪৪ অপরাহ্ণ

গীতা বিশ্বাস, বয়স প্রায় ৫০। কিন্তু কঙ্কালসার শরীর দেখে মনে হবে বয়স আরো অনেক বেশি। স্বামী উজ্জ্বল বিশ্বাস প্রতিবন্ধী এবং মানসিক ভারসাম্যহীন। নি:সন্তান এই দম্পতির বাড়ি মীরসরাই উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে। কিন্তু আত্মীয়দের অত্যাচারে বাড়ি ছেড়েছেন ১০ বছর আগে। এখন থাকেন চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের চৌমুহনী এলাকার মিয়া বাড়ির নীচতলার একটি ঘরে। গতকাল “ঘরে খাবার নেই, ট্রাক থেকে চাল কুড়িয়ে নিলেন বৃদ্ধা” শিরোনামে এই গীতা বিশ্বাসের একটি খবর প্রকাশিত হয়। হৃদয়বিদারক এই খবর মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ অন্যান্য সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।

 

খবরটি দৃষ্টি এড়ায়নি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের। তৎক্ষনাৎ গীতা বিশ্বাস সম্পর্কে খোজ খবর নিতে অধস্তন অফিসারদের নির্দেশ দেন তিনি। আজ গীতা বিশ্বাসকে খুজে বের করে জেলা প্রশাসন চট্টগ্রাম এর পক্ষ থেকে ২০ কেজি চাল, ১০ কেজি ডাল, ১০ লিটার তেল, ৪ কেজি আলু, ২ কেজি লবন, ২ কেজি চিনি, সাবান, শ্যাম্পু সহ প্রায় ২ মাসের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি এবং নগদ ৫ হাজার টাকা নিয়ে গীতা বিশ্বাসের বাসায় হাজির হন জেলা প্রশাসন চট্টগ্রাম এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব প্রতীক দত্ত। এসময় গীতা বিশ্বাসের নিজ বাড়ি মীরসরাইয়ের জায়গা জমি সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

 

এছাড়া স্থানীয় ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম বাহাদুর গীতা বিশ্বাসকে ১৫ দিন পরপর চাল ডাল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পাঠানোর আশ্বাস দেন। এসময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত বলেন, “আমি ডিসি স্যারের নির্দেশে এখানে এসেছি। প্রথম আলোর খবরটি আমাদের চোখ এড়িয়ে গেলেও চট্টগ্রামের অভিভাবক আমাদের ডিসি স্যার ঠিকই খেয়াল করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে মীরসরাই এর ইউএনও স্যারকে এই ভদ্র মহিলার বিষয়টি মানবিকভাবে দেখার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। তাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড বা ওএমএস এর কার্ড করে দেয়া যায় কিনা সেটি ইউএনও স্যার দেখবেন। এরকম অসহায় ও গরীব মানুষের পাশে জেলা প্রশাসন চট্টগ্রাম সবসময় ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

 

পূর্বকোণ/রাজীব/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট