চট্টগ্রাম সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বশেষ:

৬ জানুয়ারি, ২০২৩ | ৭:৩৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঠিকাদারের ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও চেরিস এগ্রোর চেয়ারম্যান পিয়াল

ভুট্টা ব্যবসায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ শতাংশ লাভের কথা বলে অংশীদার বানানোর নামে এক ঠিকাধারের ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা নিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে চেরিস এগ্রোর চেয়ারম্যান পিয়াল শর্ম্মা। শুক্রবার ( ৬ জানুয়ারি) খোঁজ খবর নিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আগামী রবিবার আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এই ঠিকাদার।

অভিযুক্ত পিয়াল শর্ম্মা চান্দগাঁও থানাধীন মোহরার দীঘির পাড় এলাকার মল্ল বাড়ির কাঞ্চন শর্ম্মার ছেলে।

ইতিমধ্যে পিয়াল অন্তত ২০ জনের কাছ থেকে ১০ কোটির অধিক টাকা মেরে পরিবারসহ ভারতে পালিয়ে গেছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে শোরগোল চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। কেউ কেউ থানায় গিয়ে পিয়ালের বিরুদ্ধে ব্যবসায় লাভের লোভ দেখিয়ে টাকা নিয়ে পালানোর অভিযোগও করেছেন।

 

এ বিষয়ে চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাঈনুর রহমান পূর্বকোণকে বলেন, পিয়াল শর্ম্মার বিরুদ্ধে থানায় ইতিমধ্যে তিনজন লিখিত অভিযোগ করেছে। আরও কয়েকজন মৌখিক অভিযোগ করলে তাদের থানায় এসে লিখিত অভিযোগ করতে পরামর্শ দিয়েছি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। সর্বশেষ রাজেস ধর নামে এক ব্যক্তি ২১ লাখ টাকার জন্য পিয়ালের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

এদিকে পিয়ালের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী মিশু দে (১৯) হঠাৎ তিনদিন ধরে খোঁজ থাকায় গত ৩১ ডিসেম্বর চান্দগাঁও থানায় নিখোঁজ ডায়েরি ( নং-১৭৭৫) করেন মিশুর মা রিংকু দে। নিশুর বাবা পেশায় দিনমজুর।  

 

ভুক্তভোগী এই ঠিকাদার কবিতা কনস্ট্রাকশনের মালিক হৃদয় মিত্র সুমন জানান, গত ডিসেম্বর মাসে আমাকে  ভুট্টা ক্রয় করে পাইকারী ও কারখানা মালিকদের সাপ্লাই দেয়ার জন্য একজন অংশীদার হওয়ায় প্রস্তাব দেয় পিয়াল। তখন আমি তাকে লিখিতভাবে ডিড ডকুমেন্ট করে অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দিলে সে আমাকে তাকে বিশ্বাস করতে বলে। পরে আমাকে তার ব্যক্তিগত হিসাবের আল -আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ৮৫ লাখ টাকা ও ব্যাংক এশিয়ার নব্বই লাখ টাকার চেক দিয়ে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা নিয়ে যায়। আমি জানতে পারছি সে পরিবার নিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে। আগামী রবিবার আমি তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করবো।

পিয়ালের অংশীদার চেরিস এগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক  অপূর্ব দে বলেন, পিয়ালের ব্যক্তিগত লেনদেনের জন্য আমরা কেন দায়ী হবো? আমরা নিজেরাও তো ভুক্তভোগী। আমরা আরেক অংশীদার পরিচালক সৈকত বাসুসহ সিদ্ধান্ত নিয়েছি পিয়ালে ব্যক্তিগত দায় নেব না। যারা টাকা দিয়েছে তারা কী আমাদের স্বাক্ষী রেখে দিয়েছে? নাকি আমরা ইনভলব ছিলাম। আমাদের দুজনেরও তো ১০ লাখ করে ২০ লাখ  টাকা আছে।

 

পূর্বকোণ/আরআর/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট