চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৪

সর্বশেষ:

পা হারানো জাবেদকে হুইল চেয়ার উপহার দিল আল মানাহিল

নূর হোসেন মামুন

১৮ অক্টোবর, ২০২২ | ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

১০ বছর আগে বাসের চাপায় দু’পা হারিয়ে চলাচলের সামর্থ হারিয়ে ফেলেছে জাবেদ নামের পঞ্চাশোর্ধ এই ব্যক্তি। সন্তান থাকলেও খোঁজ নেয় না তার এবং মায়ের। বিয়ে করে সংসার পেতেছেন নিজের মতো। স্ত্রী ও নিজের ভরণপোষণ করতে ব্যাটারিচালিত রিক্সা চালানোর চেষ্টাও করেছিলেন জাবেদ। তবে শরীরের সামর্থ না থাকায় চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন বারবার। শেষ পর্যন্ত রাস্তায় ক্ষুরিয়ে ক্ষুরিয়ে ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেঁছে নিয়েছেন পঞ্চাশোর্ধ এই ব্যক্তি। এবার অসহায় এই ব্যক্তির পাশে দাঁড়িয়েছে আল মানাহিল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন নামে একটি সেবামূল প্রতিষ্ঠান।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটির চট্টগ্রামের সুগন্ধা আবাসিক এলাকার কার্যালয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করা জাবেদকে একটি হুইল চেয়ার উপহার দেয় সংস্থাটি।

চলাফেরার বাহন হুইল চেয়ার পেয়ে বেশ খুশি মোহাম্মদ জাবেদ। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ। আল মানাহিলকে অসংখ্য ধন্যবাদ। তারা খোঁজখবর নিয়ে আমার জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন আল মানাহিল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাওলানা হেলাল উদ্দিন। পূর্বকোণকে তিনি বলেন, অবশেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে দু’পা হারা অসহায় ভাইটিকে খুঁজে বের করে আল মানাহিলের পক্ষ থেকে একটি হুইল চেয়ার উপহার দেয়া হয়। কয়েকদিন পূর্বে চট্টগ্রাম শহরের সানমারের পাশে তাকে অনেক কষ্টে চলাফেরা করতে দেখে একটি হুইল চেয়ার দেয়ার উদ্যোগ নিই আমরা। কিন্তু ঠিকানাহীন ভাইটিকে খুঁজে পাওয়া আমাদের জন্য কষ্টকর ছিল। যথারীতি তার ছবিসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালিয়ে সন্ধান বের করতে সক্ষম হই আমরা। ভাইটিকে খুঁজে বের করে হুইল চেয়ার উপহার দিতে পেরে যেন রাজ্য জয়ের আনন্দ অনুভূত হচ্ছে আমাদের।

আল মানাহিল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের বৈদেশিক যোগাযোগ কর্মকর্তা মিরাজ আহম্মেদ বলেন, সে এর আগে একটি ব্যাটারিচালিত রিক্সা চালাতো। তবে শারীরিক সামর্থ না থাকায় তা কন্টিনিউ করতে পারেনি। এরপরই ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করে। এভাবে প্রায় ১০ বছর কেটে গেছে তার। আশাকরি এবার তার জীবনের মোড় পাল্টে যাবে।

আল মানাহিল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কর্মকর্তা মো. আজাদ বলেন, আমরা হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। আমাদের হাসপাতলেও গত দুই মাসের মতো এক ব্যক্তিকে বিনামূল্যে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বন্যাকবলিত সিলেটে ৫০টির মতো ঘর ইতিমধ্যে নির্মাণ করেছি আমরা। আরও ঘর নির্মাণের উদ্যোগ চলছে।

পূর্বকোণ/মামুন

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট