চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১২:০২ অপরাহ্ণ

ইমাম হোসাইন রাজু

হালিশহর-পাহাড়তলী ডেঙ্গুর হটস্পট

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হন নগরীর পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা শিউলি রানী। কিন্তু ভর্তির পরদিন বুধবার সকালে মৃত্যু হয় এ নারীর। একই এলাকা থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর খুরশিদা বেগম নামে আরও এক নারী ভর্তি হন হাসপাতালটিতে। তিনিও বুধবার রাতে মারা যান একই কারণে। সরকারি এ হাসপাতাল ছাড়াও একইসময়ের বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যু হয় মোগলটুলি এলাকার দিলআরা বেগম রেশমী নামে আরেক নারীর। তিনিও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ছিলেন। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু ঘটে চট্টগ্রামে।

শুধু এ তিনজনই নয়, এর আগেও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে মৃত্যু হয় হালিশহরের মরিয়ম আক্তার এবং রাউজানের পলাশ আশ্চার্য নামে আরও দুই জনের। তাদের মধ্যে মরিয়ম আক্তার গত ৬ সেপ্টেম্বর আর পলাশ আশ্চার্য মারা যান ১৫ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ গেল দুই সপ্তাহে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

 

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, মৃত্যু ছাড়াও গেল দুই সপ্তাহে উদ্বেগজনক হারে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বেড়েছে চট্টগ্রামে। এরমধ্যে আক্রান্তের ৮৫ শতাংশই হচ্ছে নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। যারমধ্যে নগরীর পাহাড়তলী ও হালিশহরের আশপাশের এলাকাগুলোতেই রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। আর মৃত্যু ও আক্রান্ত বিবেচনায় নগরীর পাহাড়তলী ও হালিশহর এলাকাকে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। হঠাৎ করেই ডেঙ্গু এমন টালমাটাল অবস্থায় উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে সংশ্লিষ্টদের। এরমধ্যে ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যুতে উদ্বিগ্ন খোদ স্বাস্থ্য বিভাগ। যদিও ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে জোর তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগ।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, নগরীর পাহাড়তলী, সরাইপাড়া, হাজিপাড়া, দেওয়ানহাট, হালিশহর, বড়পোল ও জেলার সাতকানিয়ায় সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া যাচ্ছে। যাদের মধ্যে একই পরিবারের একাধিক রোগীও রয়েছেন।

এদিকে, এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গেল একদিনে চট্টগ্রামে আরও ১২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮ জনই হচ্ছেন নারী। ভর্তি হওয়া এ ১২ জন নিয়ে চট্টগ্রামে চলতি বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৫৮২ জনে এসে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হলেও ৫২০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে এখনও সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ৫৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন। এরমধ্যে বেসরকারি হাসপাতালে ২৮ জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৪ জন এবং চমেক হাসপাতালে ২৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।

চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবদুর রব মাসুম বলেন, গেল মাসেও কিছুটা সহনীয় ছিল, কিন্তু চলতি মাসেই এখন প্রতিদিন রোগী পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় জমে থাকা পানিতে এডিসের লার্ভা জন্মাচ্ছে। এ জন্য ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গু। তবে এ রোগ থেকে বাঁচতে হলে অবশ্যই আমাদের সচেতন হতে হবে। মনে রাখতে হবে এখন ডেঙ্গু প্রকোপের সময়। তাই বৃষ্টি হলেও বাসা-বাড়িসহ চারপাশের আঙ্গিনা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

 

পূর্বকোণ/এএস

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট