চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২২

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্ক্রিনশর্ট নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড : চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল

সিনিয়র চিকিৎসক, চিকিৎসক নেতাসহ বিভিন্নজনের নামে ‘বিরূপ’ মন্তব্য করার কিছু ম্যাসেঞ্জার স্ক্রিনশট নিয়ে লঙ্কাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে। বিষয়টি ইতোমধ্যে থানা থেকে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। কর্তব্যরত এক চিকিৎসকের নামে ‘ভুয়া’ ফেসবুক আইডি খুলে একটি চক্র এমন কাণ্ড ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। আর এ ঘটনায় পৃথক তিন থানায় এরইমধ্যে ৩টি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, সম্প্রতি মা ও শিশু হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. শেফাতুজ্জাহান, বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. বিশ্বজিৎসহ এমন বেশ কিছু ব্যক্তির নামে ‘উজায়ের আফিফ রোহাজ’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে ‘বিরূপ’ মন্তব্য সংক্রান্ত কিছু স্ক্রিনশর্ট ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্নজনের কাছে। তবে স্ক্রিনশটগুলো রোহাজের নামের হলেও তা প্রথম পাঠানো হয় ‘জাহেদ কবির ৭২’ নামে একটি ই-মেইল থেকে।

আর এই মেইলটি খোলা হয় হাসপাতালেরই ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মাঈনুদ্দিন হাসানের নম্বর দিয়ে। নিজের নামে ‘ভুয়া’ ফেসবুক আইডি খুলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কারণে ডা. রোহাজ নগরীর ডবলমুরিং থানায় জিডি করেন। ইতোমধ্যে জিডির বিষয়টি তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালতও। একই সঙ্গে নিজেকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় নগরীর খুলশী থানায় আরেকটি জিডি করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. শেফাতুজ্জাহান।

এছাড়া নিজের নম্বর দিয়ে মেইল আইডি খোলায় নগরীর চান্দগাঁও থানায় তৃতীয় জিডি করেছেন বলে দাবি অভিযোগের ‘তীর’ থাকা ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মাঈনুদ্দিন হাসানও। ডা. মো. উজায়ের আফিফ রোহাজ বলেন, ‘আমার নাম ব্যবহার করে কে বা কারা ভুয়া একাউন্ট খুলে। এ নিয়ে আমি খুব বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছি। তাই থানায় এ সংক্রান্ত একটি জিডি করি।

জানতে পেরেছি- যে নম্বর দিয়ে মেইল আইডি খোলা হয়েছে, সেটি মাঈনুদ্দিন হাসানের। আর মাঈনুদ্দিন হাসানই প্রথম ডা. শাওনের কাছে পাঠায়, শাওন অন্যদের কাছে পাঠায়। তাছাড়া মাঈনুদ্দিন হাসানও তার সম্পৃক্ততার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। আমি এ বিষয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’

আর ডা. মোতাহের হোসেন শাওনও বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘মাঈনুদ্দিন হাসান আমাকে জানায়- হাসপাতাল সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কিছু তথ্য দিতে চান অজ্ঞাত এক ব্যক্তি, সেজন্য আমার ইমেইল আইডি খুঁজছেন। পরবর্তীতে ‘জাহিদ কবির ৭২’নামে একটি ইমেইল থেকে আমাকে সেফাতুজ্জাহান ও বিএমএ সেক্রেটারির নামে কিছু কথোপকথনের স্ক্রিনশর্ট পাঠায়। যেহেতু সেফাতুজ্জান ম্যাডামের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল, তাই আমি ম্যাডামকে এসব স্ক্রিনশর্ট পাঠাই।’

জানতে চাইলে ডা. মাঈনুদ্দিন হাসান ঘটনাটি ষড়যন্ত্র দাবি করে বলেন, ‘জাহিদ কবির ৭২’ নামে ওই ইমেইল থেকে শাওনের ইমেইল চাওয়া হয়। তাই আমি উনার ইমেইল দেই। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারি, আইডিটি আমার মোবাইল নম্বর দিয়ে খোলা। এটি দেখে আমি নিজেও আশ্চর্য্য হই। এটি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তাই আমিও এ বিষয়ে চান্দগাঁও থানায় একটি জিডি করেছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে ডা. মাঈনুদ্দিন হাসান বলেন, ‘যেহেতু আমার নম্বর দিয়ে ইমেইল আইডি খোলা হয়েছে, সেহেতু আমি দায় এড়াতে পারি না। তবে আমি নিশ্চিত যাতে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। রোহাজ ভাইয়ের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক নষ্ট করতেই এমন কাজ করতে পারে। আমিও এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’

ডা. শেফাতুজ্জাহান বলেন, ‘বিষয়টি যখন আমি দেখতে পাই, তখন খুবই মর্মাহত হই। তাই জিডি করি। খুব খারাপ লেগেছে, সবাই আমার ছাত্র। তবে এখন জানতে পেরেছি, আমার ছাত্ররা এ কাজে জড়িত নয়, ধারণা হচ্ছে- বাইরের কেউ এসব করছে।’

এদিকে, আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ রেজাউল করিম আজাদ বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

অন্যদিকে ডবলমুরিং থানার এসআই মো. শাহনেওয়াজ বলেন, ‘রোহাজ নামে এক চিকিৎসক থানায় জিডি করেন। এ বিষয়ে তদন্তের অনুমোদনের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।’ আর আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েদ দেব’র আদালত জিডিতে তদন্তের অনুমতির আবেদন মঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তাকে আগামী ১৬ নভেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন।

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট