
পঞ্চাশের বেশি ফিজিওথেরাপি সেন্টার রয়েছে চট্টগ্রামে। তবে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ভাগ সেন্টারে আছেন ডিগ্রিধারী ফিজিওথেরাপিস্ট। বাকি ৬০ থেকে ৭০ ভাগ সেন্টারই চলছে টেকনিশয়ান দিয়ে। এসব সেন্টারে প্রদান করা হচ্ছে নামেমাত্র ফিজিওথেরাপি সেবা। আর এসব সেবা গ্রহণ করে ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষও।
এ কারণে রোগীদের নানা স্বাস্থ্য ঝুঁকিসহ মৃত্যু হার বাড়ার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন বাস্তবতার মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার পালিত হবে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে দিবসটি। ফিজিওথেরাপি দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘অস্টিও-আথ্র্রাইটিস রোগের ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি কার্যকরী চিকিৎসা’। বিভিন্ন গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে- চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের প্রায় ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ অস্টিও-আর্থ্রাইটিস রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং এই রোগের চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর ফিজিওথেরাপিস্টরা বলছেন, অস্টিও-অর্থ্রাইটিস একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এটি শারীরিক অক্ষমতার প্রধান কারণ। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫২০ মিলিয়ন মানুষ অস্টিও-আর্থ্রাইটিস আক্রান্ত। নিয়মিত ফিজিওথেরাপি অস্টিও-অর্থ্রাইটিস, হিপফ্রেকচার, হাটু রিপ্লেসমেন্টের মত জটিল অস্ত্রেপচারের প্রতিরোধ বা দীর্ঘ সময় সুস্থ রাখতে পারে। তবে এ জন্য সঠিক ফিজিওথেরাপি সেন্টার এবং ডিগ্রিধারী ফিজিওথেরাপিস্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চিফ ফিজিওথেরাপিস্ট মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকার স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রিধারীরাই ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে গণ্য হন। কিন্তু অনেকস্থানেই ডিগ্রিধারী কোন ফিজিওথেরাপিস্ট ছাড়াই সেন্টার পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কারণে রোগীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা প্রদান করছেন অনেকেই। এতে রোগীরা মানসম্পন্ন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, বিশ্বের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকদের ভূমিকাকে স্বীকৃতি প্রদান এবং এই পেশার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড ফিজিওথেরাপি’-এর উদ্যোগে ১৯৯৬ সাল থেকে প্রতি বছর ৮ সেপ্টেম্বর এ দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে চট্টগ্রামেও নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উদ্যোগে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ সরকারি চাকরিজীবী ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন (বিজিইপিএ) ও বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন (বিপিএ) কর্তৃক সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ করা হবে। এর বাইরেও বিভিন্ন থেরাপি সেন্টারের উদ্যোগে রোগীদের সচেতনতা বাড়াতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
পূর্বকোণ/আর