চট্টগ্রাম বুধবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৪

সর্বশেষ:

ঢাকায় কমমূল্যে দুধ ডিম মাংস বিক্রি, বঞ্চিত চট্টগ্রাম

৬ এপ্রিল, ২০২২ | ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম

নগরীর শুলকবহর এলাকার বাসিন্দা সুরমা আক্তার। তিনি কাজ করেন একটি পোশাক কারখানায় জুনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে। আলাপকালে পূর্বকোণকে তিনি বলেন, সীমিত যে আয়, তা দিয়ে বাজার থেকে ভালো-মন্দ কিনে খাওয়া সম্ভব নয়। তাই ঢাকার মত চট্টগ্রামেও স্বল্পমূল্যে মাংস কেনার সুযোগ পেতে চান তিনি এবং তার মত আরো অনেকেই। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকার মানুষ যদি কমমূল্যে গরুর মাংস, খাসির মাংস, দুধ ও ডিম কিনে খেতে পারে তাহলে আমাদের অপরাধটা কোথায়। আমরা কেন এই সুযোগ পাব না?

কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন পূর্বকোণকে বলেন, পবিত্র রমজান মাসে পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবারের চাহিদা একটু বেশি। চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী বলা হয়। কারণ রাষ্ট্রের সিংহভাগ রাজস্ব চট্টগ্রাম থেকে যায়। কিন্তু স্বল্পমূল্যে পুষ্টিসমৃদ্ধ পণ্য কেনার সুযোগ পর্যন্ত চট্টগ্রামের ক্রেতারা পাচ্ছে না। এটা দুঃখজনক এবং দুর্ভাগ্যজনক। অবিলম্বে চট্টগ্রামেও এই উদ্যোগ চালু করার দাবি জানান তিনি।

পবিত্র রমজান উপলক্ষে গত ৩ এপ্রিল থেকে রাজধানীতে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংসের ভ্রাম্যমাণ বিক্রি কার্যক্রম পরিচালনা করছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। রাজধানীর ১০টি স্থানে ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে করে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে। মূলত গরুর মাংস, খাসির মাংস, দুধ ও ডিমের সরবরাহ বৃদ্ধি ও সাপ্লাই চেইন সচল রেখে মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে রমজান মাসের জন্য এই উদ্যোগ। জনসাধারণ যেন সহজেই প্রাণিজ আমিষ ও পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারে সে লক্ষ্যে ব্যবসায়ী, উৎপাদনকারী ও সাপ্লাই চেইন সংশ্লিষ্ট সকলকে সাথে নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এ ভ্রাম্যমাণ বিপণন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করছে। ২৮ রমজান পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। এই কর্মসূচির আওতায় ঢাকায় পাস্তুরিত তরল দুধ প্রতি লিটার ৬০ টাকা, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৫৫০, খাসির মাংস প্রতি কেজি ৮০০, ড্রেসড ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২০০ ও ডিম প্রতি হালি ৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প এ কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে। বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস এসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন পূর্বকোণকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকার ১০টি স্থানে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে। দেশের আর কোন বিভাগীয় শহরে এই উদ্যোগ নেই। তিনি জানান, মূলত কোল্ড ভ্যানের অভাবে ঢাকার বাইরে উদ্যোগ নিতে পারেনি। ট্রাকে করে এই পণ্য বিক্রি করতে গেলে তা গরমে নষ্ট হয়ে যাবে। ঢাকায় যে ১০টি স্পটে বিক্রি করা হচ্ছে সেখানে লাইভস্টক এন্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (এলডিডিপি) সহায়তায় ১০টি ভ্যান ভাড়া করা হয়েছে। আর পণ্যগুলো খামারিরা সমন্বয় করে সরবরাহ করছেন। ভ্যান থাকলে চট্টগ্রামেও এই উদ্যোগ নেয়া যেত। তবে মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন, প্রয়োজনে ঢাকার বাইরেও এই উদ্যোগ নেয়া হবে।

 

পূর্বকোণ/এস

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট