
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফৌজদারহাট থেকে বন্দর পর্যন্ত টোল রোড আট লেন করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। ফৌজদারহাট থেকে বন্দর পর্যন্ত সাড়ে এগারো কিলোমিটার টোল রোড বর্তমানে দুই লেনের। সড়কটির প্রথম সাড়ে সাত কিলোমিটার আট লেন বাকি চার কিলোমিটার ছয় লেনে উন্নীত করা হবে। সাধারণ মানুষের চলাফেরার সুবিধার্তে সড়কের দুই পাশে দুটি লেন করা হবে। টোল রোড সংযুক্ত করা হবে বঙ্গবন্ধু টানেলের সাথে। সড়কটি আট লেন ও ছয় লেনে উন্নীত করতে ব্যয় ধরা হয়েছে আটশ’ কোটি টাকা। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) সড়কটি নির্মাণে অর্থায়ন করার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে টোল রোডের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। একনেকে প্রকল্পটি পাস হলে টেন্ডার আহ্বান করা হবে। সওজের প্রধান প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান, টোল রোডে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। আগামী ৫০ বছরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মাথায় রেখে সড়কটি ফৌজদারহাট অংশ থেকে প্রথম সাড়ে সাত কিলোমিটার ৮ লেন ও পরবর্তী চার কিলোমিটার ছয় লেন করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।
এরমধ্যে দুই সড়কের দুই পাশে দুই লেন থাকবে সাধারণ মানুষের চলাফেরা করার জন্য। বকি ছয় লেন ও চার লেনে যানবাহন চলাচল করবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফৌজদারহাট অংশে সড়ক বন্ধ করে গাড়ি পারাপার করতে হয়। এতে প্রায় সময় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসনে ফৌজদারহাট অংশে একটি ইউ-লুপ নির্মাণ করা হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছয় লেন হবার পরই ইউ-লুপ নির্মাণের কাজে হাত দেয়া হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন গড়ে দশ হাজারের বেশি ট্রাক, কাভার্ডভ্যান এবং কন্টেইনার মোভার যাতায়াত করে। বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে এসব গাড়ি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আসা যাওয়া করে। এর বাইরেও ব্যক্তিগত যানবাহন নিয়ে লোকজন বন্দরে যাতায়াত করেন। বন্দরকেন্দ্রিক যানবাহনের বিশাল চাপ সামলাতে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল থেকে ফৌজদারহাটের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত সাড়ে এগারো কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়ক নির্মাণ করা হয়। যাতে বিশ্বব্যাংক ব্যয় করে প্রায় একশো কোটি টাকা। সড়কটির কাজ শুরু করা হয় ২০০২ সালে। ২০০৭ সালে সড়কটি যানবাহন চলাচল করতে খুলে দেয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী সড়কটি টোল রোডে পরিণত হয়। বর্তমানে সড়কটিতে একটি প্রাইম মুভার বা ট্যাংক লরি ৪৫ টাকা, কাভার্ডভ্যান ৩৫ টাকা, ট্রাক ২০ টাকা, মিনি ট্রাক ১৫ টাকা এবং প্রাইভেটকারসহ অন্যান্য যানবাহন ৫ টাকা হারে টোল দিয়ে থাকে। শুরুর দিকে সড়কটির ব্যবহার কম থাকলেও বন্দরকেন্দ্রিক যানবাহনগুলো এ সড়ক ব্যবহার করছে। বিশ বছরের বেশী সময় আগে বন্দর টোল রোডের জন্য নেয়া প্রকল্পে সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা করা হয়নি। সড়কটি বর্তমানে দুই লেনের। ২৪ ফুটের এ সড়ক যানবাহনের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোডের সাথে টোল সড়ক যুক্ত করে দেয়ার পর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি চলাচল করছে। বে টার্মিনাল চালু হলে সড়কটিতে যানবাহনের চাপ বাড়বে বৈকি।
পূর্বকোণ/এসি