চট্টগ্রাম শনিবার, ০১ এপ্রিল, ২০২৩

সর্বশেষ:

২২ জুন, ২০১৯ | ২:২৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা হ বাঁশখালী

৮টি অস্ত্র ও বিপুল সংখ্যক গুলি উদ্ধার

বাঁশখালীতে দিনে দুপুরে বন্দুকযুদ্ধে দু’ভাই নিহত

বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের দক্ষিণ সরল গ্রামে মিয়াজী বাড়িতে গতকাল (শুক্রবার) দুপুর ১২টার দিকে র‌্যাবের সদস্যরা ২৭ মামলার আসামি মেম্বার জাফর আহমদের বাড়ি ঘেরাও করলে র‌্যাবের উপস্থিতে টের পেয়ে ডাকাত জাফর আহমদ র‌্যাব সদস্যদের উদ্দেশ্যে গুলি বর্ষণ করে। র‌্যাব সদস্যরা পাল্টা গুলি ছুঁড়লে জাফর আহমদ (৪৫) ও তার ভাই খলিল আহমদ (৫০) ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছে। তারা দক্ষিণ সরল চৌধুরী বাড়ির মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে। ‘বন্দুকযুদ্ধ’ চলাকালীন সময়ে ৩০/৩৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে র‌্যাব একটি বিদেশি পিস্তলসহ ৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও রাম দা, কিরিচ উদ্ধার করে। র‌্যাব সদস্যরা থানা পুলিশের কাছে লাশ হস্তান্তরের পর এস.আই হাবিবুর রহমান লাশের সুরতহাল তৈরী করে ২ জনের লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন। দক্ষিণ সরল গ্রামে ডাকাত জাফর ও তার ভাই খলিল নিহতের সংবাদ পেয়ে শত শত মানুষ মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ উল্লাস করে।
পুলিশ জানায়, র‌্যাব’র ডিএডি পর্যায়ের অফিসার বাদি হয়ে খুন, অস্ত্র ও র‌্যাব সদস্যদের উপর হামলা গুলি বর্ষণের দায়ে ৩টি মামলার প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ সরল মিয়াজী বাড়ির মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য জাফর আহমদ খুন, ডাকাতিসহ ২৭ মামলার আসামি হয়ে সরল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত। তার নিয়ন্ত্রণে সরল ইউনিয়নের সরকারি ঝাউ বাগান উজাড় করে শত শত একর লবণ ও চিংড়ি চাষের জমি দখল করা হয়। এসব জমি নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিল। এসব সরকারি জায়গার দখল নিয়ে সন্ত্রাসী ও ডাকাত দলের সংর্ঘষে ৫ বছরে ৪ জন খুন হয়। আহত হয় অন্তত ৩০ জন। সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের ঝনঝনানিতে সরল ইউনিয়নটিতে সাধারণ মানুষ জাফর ডাকাতের আতংকে দিন কাটাত। অপর নিহত খলিল আহমদের বিরুদ্ধে দাঙ্গা-হাঙ্গামার ৮টি মামলা রয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) চট্টগ্রাম র‌্যাব-৭ এর সদস্যরা জাফর ডাকাতকে গ্রেপ্তারের জন্য সোর্স নিয়োগ করে দক্ষিণ সরল গ্রাম ঘেরাও করে রাখে। জুমার নামাজের পূর্বে র‌্যাবের সদস্যরা অভিযানে নামলে দুর্ধর্ষ ডাকাত র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের (র‌্যাব) সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে, র‌্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছুঁড়লে জাফর ডাকাত গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটে পড়ে। অপর একটি ঘরে লুকিয়ে থাকা খলিল আহমদ নতুন সড়ক দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় আবু তাহেরের বাড়ির সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান।
র‌্যাবের এএসপি তারেক জানান, সরল ইউনিয়নের দুর্ধর্ষ ডাকাত সন্ত্রাসী জাফর ডাকাতকে গ্রেপ্তারের জন্য উপস্থিতি টের পেয়ে র‌্যাব সদস্যদেরকে লক্ষ্য করে জাফর আহমদ এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করে। র‌্যাব সদস্যরা পাল্টা গুলি করলে গুলিবিদ্ধ হয়ে সে মারা যায়। একইভাবে অভিযানে খলিল আহমদও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তলসহ ৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি, রাম দা ও কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে।
র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মাশকুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণ সরলে অভিযানে যান র‌্যাবের সদস্যরা। এই সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত জাফর ও তার সহযোগিরা গুলি ছুঁড়ে। র‌্যাব পাল্টা গুলি ছুঁড়লে ডাকাত জাফর আহমদ ও খলিল আহমদ নিহত হয়।
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) কামাল উদ্দিন জানান, দুর্ধর্ষ ডাকাত সন্ত্রাসী জাফর মেম্বারের বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা রয়েছে। তৎমধ্যে ১১টি ওয়ারেন্ট। পুরো এলাকাটি সে জিম্মি করে রেখেছিল। ডাকাত ২ ভাইয়ের লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট