চট্টগ্রাম শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৪

সচিবালয়ে ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা

চট্টগ্রাম ওয়াসার ভা-ালজুড়ি প্রকল্পের ঠিকাদার অনুমোদন

মোহাম্মদ আলী

২০ জুন, ২০১৯ | ২:১৯ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম ওয়াসার ভা-ালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পে নির্মাণ কাজ পেয়েছে তাইইয়ং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ঠিকাদার নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষ হলে ওয়াসার পানি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে দৈনিক আরো ৬ কোটি লিটার। যা সরবরাহ হবে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে। এর আগে ২০১১ সালে প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৩৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। নতুনভাবে ব্যয় বাড়িয়ে এক হাজার ৩’শ ৭৩ কোটি ৮০ লাখ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকার যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ভা-ালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের পরিচালক ও ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহম্মদ মাহবুবুল আলম দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম ওয়াসার ভা-ালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পে নির্মাণ কাজ পেয়েছে তাইইয়ং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড। বুধবার সচিবালয়ে ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ঠিকাদার নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। কার্যাদেশের পর দ্রুত প্রকল্পের মূল কাজ শুরু হবে। এর আগে ভা-ালজুড়ি প্রকল্পের ঠিকাদার বাছাইশেষে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে চট্টগ্রাম ওয়াসা।’
কর্ণফুলী নদীর ওপারে বোয়ালখালীতে ভা-ালজুড়ি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প ১ ও ২ এবং মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্পের পর ওয়াসা নতুন এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ‘ভা-ালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্প’ নামে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর ওয়াসার পানি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে দৈনিক আরো ৬ কোটি লিটার। দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, আনোয়ারা, কর্ণফুলী ও বোয়ালখালী উপজেলায় পানি সরবরাহ করতে চট্টগ্রাম ওয়াসা এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্র জানায়, কর্ণফুলীর নদীর বাম তীরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, সরকারি ও বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান, কোরিয়ান ইপিজেডসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পানি সরবরাহের জন্য এই প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। বোয়ালখালীর জ্যৈষ্ঠপুরা গ্রামের ভা-ালজুড়ি খালের পাড়ে এই প্রকল্পের পানি শোধনাগার তৈরি করা হবে। সেখান থেকে কর্ণফুলী নদীর বাম তীরে অবস্থিত শিল্পকারখানা ও আবাসিক এলাকায় পানি সরবরাহ করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে যে পানি উৎপাদিত হবে, তার ৭৫ ভাগ সরবরাহ হবে শিল্পাঞ্চলে। অবশিষ্ট ২৫ ভাগ বরাদ্দ হবে আবাসিক গ্রাহকদের। ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। পানি শোধনাগার নির্মাণস্থানের জন্য ভূমির অনুমোদনও মিলেছে। প্রকল্পের আওতায় ৬ কোটি লিটার ক্ষমতা সম্পন্ন একটি পানি শোধনাগার, প্রায় ১৩৩ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন, কনভয়েন্স ও ডিস্ট্রিবিউশন পাইপলাইন এবং কোরিয়ান ইপিজেডে ও পটিয়ায় ২টি পানির রিজার্ভার নির্মাণ করা হবে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট