চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২২

২৭ এপ্রিল, ২০১৯ | ৩:০৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নজরকাড়া ডিজাইনের কাপড় খলিফাপট্টির দোকান সমূহে

টিসু ফ্রক, টিসু গাউন এবং নেটের ওপর কাজ করা নজরকাড়া ডিজাইনের কাপড় এখন শোভা পাচ্ছে নগরীর ২০ নং দেওয়ান বাজার ওয়ার্ডের খলিফাপট্টির দোকানগুলিতে। মূলত নারী ও শিশুদের জন্যই এখানে বাহারি ডিজাইনের পোশাক তৈরি করা হয়। মফস্বলের বিভিন্ন দোকানদার তাদের মূল ক্রেতা হলেও নগরীর রিয়াজুদ্দিন বাজারসহ বিভিন্ন মার্কেটেও এখান থেকে কাপড় যায়। এবারের ঈদে খলিফাপট্টির নতুন ক্রেতা রোহিঙ্গারা। এখান থেকে কাপড় নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলিতে বিক্রি করছে কোন কোন বিক্রেতা।
ফাইভ স্টার এমব্রয়ডারি হাউসের স্বত্বাধিকারিী মো. রাসেল পূর্বকোণকে জানান, ঈদের চাহিদা মেটানোর জন্য কারিগররা এখন রাতদিন কাজ করছে। শব ই বরাতের পর থেকে অল্প-স্বল্প বিক্রি শুরু হলেও আসল বিক্রি শুরু হবে রমজান শুরু হওয়ার পর থেকে। খলিফাপট্টিতে খুচরা কাপড় বিক্রি হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন উপজেলা থেকে খুচরা বিক্রেতারা এসে পাইকারি দামে কাপড় নিয়ে যান। তবে পরিচিত কেউ এলে তার কাছে খুচরা বিক্রি করা হয়। এখানে কাপড়ের দাম তুলনামূলকভাবে অনেক কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার কিশোরীদের জন্য টিসু ফ্রক এসেছে প্রতিটির দাম ৩০০ থেকে সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা। টিসু গাউনের দাম প্রতিটি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা। এছাড়া শূন্য থেকে ১২ বছর বয়সী ছেলে শিশুদের শার্ট-প্যান্ট এখানে তৈরি হয়। দাম ২০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত। আবার সব বয়সী মেয়েদের কাপড় এখানে তৈরি করা হয়। মূলত দাম কম হওয়ার কারণেই ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি থাকে উল্লেখ করে বলেন, অধিকাংশ কাপড়ের দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। আরো কম দামেও কাপড় পাওয়া যায়।
এদিকে, রমজান যত ঘনিয়ে আসছে খলিফাপট্টির কারিগরদের চোখের ঘুম ততই হারিয়ে যাচ্ছে। এখানে সড়ক দিয়ে হেঁটে গেলেই দূর থেকে কানে আসে সেলাই মেশিনের বিরামহীন শব্দ। গলির দুই পাশ জুড়ে রয়েছে দর্জির দোকান। ছোট ছোট কক্ষে পাঁচ-সাতজন কারিগর। কেউ কাপড় কাটছে, কেউবা সেটি সেলাই করছে। রাত জাগা চোখগুলোতে রাজ্যের ক্লান্তি। নগরীর ঘাটফরহাদবেগ এলাকার খলিফাপট্টিতে প্রায় সাড়ে ৩০০ কারখানার প্রায় তিন হাজার শ্রমিক রাত দিন কাজ করছেন।
ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, খলিফাপট্টির আগের জৌলুস আর নেই। বেচা-কেনা কম। কাপড়ের দাম পাওয়া যায় না। তবুও ঐতিহ্য রক্ষার্থে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। তবে রোজার ঈদে কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়। আবার প্রয়োজনের তুলনায় শ্রমিকও কম। তাই দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করতে হচ্ছে। বছরের অন্য সময় কাজ চলে সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত। অনেক কারখানায় শ্রমিকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দিন-রাত কাজ করছেন মালিকও।
একাধিক কারিগরের সাথে আলাপকালে তারা জানান, ডিজাইন নকল করা হলেও তাতে নি¤œ আয়ের মানুষের চাহিদা মিটছে। নিন্ম আয়ের মানুষও নতুন ডিজাইনের কাপড় কেনার সুযোগ পায়। এখানকার কারিগররা যে কোনো পোশাকের ডিজাইন একবার দেখলেই অবিকল সেই পোশাক তৈরি করতে পারে। এখানে সবাই নিজেরাই ডিজাইনার, নিজেরাই কারিগর।
১৯৪৭-এর দেশভাগের পর আইয়ুব আলী সওদাগর নামে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের এক দর্জি নগরীর ঘাটফরহাদবেগের এই এলাকায় ব্যবসা শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে ব্যবসা প্রসারিত হয়ে এলাকাটি পরিচিত হয় খলিফাপট্টি নামে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট