চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

২১ মে, ২০১৯ | ২:২৭ পূর্বাহ্ণ

আরফাতুল মজিদ , কক্সবাজার

পাচারের সময় ১৭ জন উদ্ধার

১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা, চিহ্নিত দালালরা সক্রিয়

রোহিঙ্গাদের মধ্যে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া কক্সবাজার উপকূলে আবারও শুরু হয়েছে রমরমা মানবপাচার। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে পুরনো মানবপাচারকারীরা। তারা কক্সবাজার শহরের আশপাশের কয়েকটি রুটকে মানবপাচারের জন্য নিরাপদ ঘাট হিসেবে ব্যবহার করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার শহরের ১নং ওয়ার্ড সমিতিপাড়া এলাকার নাজিরারটেক, ২নং ওয়ার্ডের নুনিয়ারছড়া, সদরের খুরুশকুল ও চৌফলদন্ডী ব্রিজ সংলগ্ন ঘাট। এই রুটে মানবপাচারকারীরা হরদম পাচার করছে রোহিঙ্গাদের। যদিও এরইমধ্যে এসব ঘাট থেকে পাচারের সময় রোহিঙ্গারা উদ্ধার হয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২০ মে) ভোরে নুনিয়ারছড়া টুইট্টাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৭ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। টুইট্টাপাড়া এলাকার জনৈক রাজু মেম্বারের বাড়ির পাশে তাদেরকে ট্রলারের তোলার জন্য মজুদ করা হয়। এসময় তিনজন পাচারকারীকেও আটক করা হয়। তারা হলেন- চৌফলদন্ডী এলাকার শামসুল আলম মাঝি প্রকাশ সামশু মাঝি (৫০), উত্তর নুনিয়ারছড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে কামরুল ইসলাম (৩২), রোহিঙ্গা দালাল মো. ছাবের (১৯) ও আজিম উল্লাহ (২৪)।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নুনিয়ারছড়া এলাকা থেকে ১৭ জন মালয়েশিয়াগামী আটক করা হলেও আরও প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন রোহিঙ্গা দালালদের সহযোগিতায় পালিয়ে যায়। মূলত তাদেরকে দালালদের বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয়। একারণে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়নি।
সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, নুনিয়ারছড়া এলাকা থেকে মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গা উদ্ধারের ঘটনায় পাঁচজন দালালকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হলেও বেশ কয়েকজন দালাল পালিয়ে যায়। পরে তাদের কয়েকজনের নাম সংগ্রহ করে পুলিশ ১২ জন দালালের নাম উল্লেখ করে মানবপাচার মামলা রুজু করেছে। মামলা নং-১১১। ওই মামলায় অজ্ঞাত আসামীও দেখানো হয়। মামলায় উল্লেখিত পলাতক আসামীরা হলেন-উত্তর নুনিয়ারছড়া এলাকার শামসু মাঝির ছেলে সৈয়দ করিম ও মোহাম্মদ করিম, ছনখোলা এলাকার জালাল আহম্মদের ছেলে ছাবের (২৫), নতুন বাহারছড়া এলাকার মৃত হোসেনের ছেলে জাফর আলম শিপন, গুরা মিয়া মাস্টারের ছেলে আবু বক্কর ও চৌফলদ-ী বাজারপাড়া এলাকার নুরুল হকের ছেলে একরাম মেম্বার (৩২), কুতুবদিয়াপাড়া এলাকার আব্দুস সাত্তার (২১) ও আব্দুস শুক্কুর (১৯)।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট