
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়(চবি) প্রশাসন ও চারুকলা ইন্সটিটিউটের সমন্বয়হীনতার অভাবে থমকে থাকা এবারের বৈশাখী আয়োজনের প্রস্তুতিতে ফেরার আশ্বাস দিয়েছেন চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার বিকেল থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠক শেষে তাঁরা এ কথা জানান শিক্ষার্থীরা।
এর আগে বুধবার বিকেলে সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউট ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার অভিযোগে বৈশাখের বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কাজ বন্ধ রেখেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব এবং বাজেট সংকটের কারণে তারা কাজ এগিয়ে নিতে পারছেন না।
দীর্ঘদিন ধরে চারুকলা ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে চট্টগ্রাম শহরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়ে আসছিল। তবে ইন্সটিটিউট ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের পর এবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজন করার পরিকল্পনা নেয়, যা ঘিরেই তৈরি হয়েছে এই মতবিরোধ।
শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রশাসন তাদের স্বতন্ত্র আয়োজনকে গুরুত্ব না দিয়ে কেবল কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হতে বলছে। এতে চারুকলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সৃজনশীল স্বকীয়তা হুমকির মুখে পড়েছে।
পরবর্তীতে, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিকেল পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলায় উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষার্থীরা তাঁদের অসন্তোষের কারণগুলো তুলে ধরেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মৌখিকভাবে আশ্বাস দেয়, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ত্রুটিগুলো দ্রুত সমাধান করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের গুরুত্ব দিয়ে দাবি পূরণের চেষ্টা করা হবে।
শিল্পী রশিদ চৌধুরী হলের ভিপি ও চারুকলা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী খন্দকার মাসরুর আল ফাহিম বলেন, “বৈঠকে আমরা আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরেছি। বরাদ্দের বাইরে মূল সমস্যা ছিল সম্মানের জায়গায় এবং দেরিতে সিদ্ধান্ত জানানো নিয়ে। প্রশাসন জানিয়েছে, তারা এসব ত্রুটি সংশোধন করবে এবং আমাদের সহযোগিতা করবে। এ কারণে আমরা কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
পয়লা বৈশাখ আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “শিক্ষার্থীরা তাঁদের অভিযোগগুলো তুলে ধরেছে। দেরিতে বাজেট বরাদ্দ ও স্বীকৃতির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সবার সম্মতিতে এখন পূর্ণোদ্যমে বৈশাখের আয়োজন চলবে। এ ছাড়া চারুকলার শিক্ষার্থীরা আলাদাভাবে অনুষ্ঠান করার কথাও জানিয়েছে। সে বিষয়েও প্রশাসন বিবেচনা করে সহযোগিতা করবে।”
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য মোহাম্মদ আল-ফোরকান, পয়লা বৈশাখ আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও সহ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) মো. কামাল উদ্দিন, কমিটির সদস্যসচিব ও প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী এবং ছাত্র উপদেষ্টা মো. আনোয়ার হোসেন।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ