
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় পাকিস্তানে আবারও ডিজেল ও পেট্রলের দাম প্রায় দিগুণ হারে বাড়ানো হয়েছে। এক মাসের কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় দফা জ্বালানির দাম বাড়াল দেশটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশটির সরকার ডিজেলের দাম প্রায় ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়িয়ে লিটারপ্রতি ৫২০ দশমিক ৩৫ রুপি নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে পেট্রলের দাম ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়িয়ে লিটারপ্রতি ৪৫৮ দশমিক ৪০ রুপি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানিমন্ত্রী আলি পারভেজ মালিক বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত অনিবার্য হয়ে পড়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবকে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর আগে গত মাসেও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান সরকার প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি মূল্য বাড়িয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি আরো বাড়তে পারে এবং এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর।
পাকিস্তান মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে হরমুজ প্রণালি হয়ে তেল আমদানি করে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহব্যবস্থা আরো চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে একই সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব জানান, ক্ষুদ্র কৃষক, মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী এবং আন্তঃনগর পণ্য ও যাত্রী পরিবহন খাতে কিছু ভর্তুকি দেওয়া হবে।
তবে জ্বালানিমন্ত্রী মালিক বলেন, গত তিন সপ্তাহে সরকার প্রায় ১২৯ বিলিয়ন রুপি ভর্তুকি দিয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে বহন করা আর সম্ভব নয়।
সীমিত সম্পদ এবং যুদ্ধের অনিশ্চিত পরিণতির কারণে সার্বিক ভর্তুকি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলেও তিনি জানান।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক অভিযান জোরদারের ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের দাম এক দিনে ১১ শতাংশের বেশি বেড়েছে, আর ব্রেন্ট তেলের দামও ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
পূর্বকোণ/এএইচ