চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬

সর্বশেষ:

ফটিকছড়িতে প্রশাসনের অভিযানের মুখেও থামছে না মাটিখেকোদের দৌরাত্ম্য

ফটিকছড়িতে প্রশাসনের অভিযানের মুখেও থামছে না মাটিখেকোদের দৌরাত্ম্য

ফটিকছড়ি সংবাদদাতা

২ এপ্রিল, ২০২৬ | ১১:০০ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পাহাড় ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান চললেও থামছে না মাটিখেকোদের তৎপরতা। একদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা ও সরঞ্জাম জব্দ করা হচ্ছে, অন্যদিকে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন এলাকায় কৃষি জমির টপ সয়েল ও পাহাড় কাটার মহোৎসব চলছে।

 

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর দেড়টায় ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম পাইন্দং ইউনিয়নের ফকিরাচান এলাকায় জান্নাত ব্রিক্স সংলগ্ন একটি ছড়া থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে রিয়াজ মাহমুদ (২৫) নামের এক যুবককে ৭০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া একই অভিযানে লেলাং গোপালঘাটা এলাকা থেকে মাটি কাটায় ব্যবহৃত একটি স্কেভেটর (এক্সক্যাভেটর) জব্দ করা হয়।

 

 

স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে, নানুপুর ইউনিয়নের কিপাইত নগর এলাকায় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে মাটি পাচার করছে। এই মাটি ছাড়ালিয়াহাট হয়ে নানুপুরের বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি ভরাটে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের যোগসাজশ রয়েছে। তারা প্রতিদিন রাত ১১টার পর ৪-৫টি ড্রাম ট্রাক ব্যবহার করে মাটি পরিবহন করে।

 

অন্যদিকে, কাঞ্চননগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেলাতেই কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কেটে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা এই অঞ্চলের কৃষি উৎপাদনের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, অবৈধভাবে মাটি কাটা, পাহাড় ধ্বংস এবং কৃষিজমির টপ সয়েল নষ্ট করার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তিনি বলেন, “যেখানেই এমন কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই নজরদারি আরও জোরদার করা হবে”।

 

তিনি পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সচেতন হওয়ার এবং অপরাধীদের তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

 

তবে সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা এই চক্রটি পুরোপুরি নির্মূল করতে হলে প্রশাসনের নিয়মিত ও আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

 

পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট