
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি অধ্যাদেশ, ২০২৬-এ স্বতন্ত্র ‘আবৃত্তি’ বিভাগ অন্তর্ভুক্তির দাবিতে সংস্কৃতিমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন চট্টগ্রামের আবৃত্তিপ্রেমীরা।
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্প রক্ষা কণ্ঠ’-এর ব্যানারে সকালে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার হাতে এই স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।
স্মারকলিপি গ্রহণকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার উদাহরণ টেনে ইতিহাসের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে আবৃত্তির উদ্দীপনামূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন।
তিনি জানান, আবৃত্তিশিল্পের মাধ্যমে মানুষের মাঝে অনন্য উদ্দীপনা তৈরি করা সম্ভব এবং এই শিল্পের বিকাশে তাঁর সর্বোচ্চ সমর্থন থাকবে। একইসাথে তিনি স্মারকলিপিটি দ্রুততার সাথে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়। এই সংশোধনীতে সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক ও চারুকলার মতো বিভাগ থাকলেও আবৃত্তি বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এরপর থেকেই দেশের আবৃত্তিশিল্পীরা এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও দাবি জানিয়ে আসছেন।
এর আগে, গত ২৪ মার্চ সংস্কৃতি মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র পরিদর্শনকালে আবৃত্তিপ্রেমীদের দাবির মুখে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, অধ্যাদেশটি সংশোধন করে আবৃত্তি বিভাগ যুক্ত করা হবে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সাইদুর রহমান পাটোয়ারী, জাওয়াদুল করিম, লতিফা আনসারী রুনা, সাহাব উদ্দিন হাসান বাবু, নাজমুল আলিম সাদেকী, কাজী মাজহারুল হক, এমদাদুল ইসলাম রুবেল, আফরিন নিগার পুষ্প, অনিক কানুনগো, সঞ্জীব দে বাবু এবং মো. আদম শফিউল্লাহ মিজভি।
আবৃত্তিপ্রেমীরা আশা প্রকাশ করছেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে শিল্পকলা একাডেমির সাংগঠনিক কাঠামোতে আবৃত্তিকে একটি স্বতন্ত্র মর্যাদা প্রদান করা হবে।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ